সব্জির বাজারে আগুন

15/10/2017 2:04 am0 commentsViews: 45

বাজারে চালের অগ্নিমূল্যের সাথে যুক্ত হয়েছে শাক-সব্জি, তরি-তরকারি। ফলে কাঁচা বাজারে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী সওদাপাতি কেনা কঠিন হয়ে উঠেছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে নেই কোনো সব্জির দাম।
রাজশাহীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখন প্রতিকেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, লতি ৬০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের ঝালের চেয়ে দাম বেশিই, কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। পেঁয়াজের ঝাঁজও কম নয়, দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৫০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বর্ষণের কারণেই মূলত এই অবস্থা। তাছাড়া সরবরাহও কম বলেও জানিয়েছেন সংশিৱষ্টরা। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজিও রয়েছে, এমন ধারণাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেও ছাড়ছেন না।
বাজারে শাক-সব্জি, তরি-তরকারি ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হলেও তেমনটি পাচ্ছেন না উৎপাদক চাষিরা। উৎপাদন খরচের কাছাকাছি দামেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। যদিও সাধারণ ক্রেতাদের আগুন দরেই কিনতে হচ্ছে তরি-তরকারি। ব্যবসায়ীদের বেহিসেবি মুনাফা লোটার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাভোক্তাদের। মধ্যস্বত্বভোগীদের থাবা এবং পরিবহন খরচ ও চাঁদাবাজিও দামবৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বলে মানুষের ধারণা।
দেশে মুক্তবাজারের নামে বাজার এতটাই মুক্ত হয়েছে যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতা অবাধ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ওপর স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণটুকুও যেন হারিয়ে গেছে। বাজার মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও বাজার সংশিৱষ্টদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে শাক-সব্জির মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে দামের ব্যবধানও ব্যাপক। মরিচের কথাই ধরা যাক। ভারত থেকে এবার প্রচুর কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আমদানি করা মরিচের দাম আড়ত পর্যন্ত ২৫ টাকা কেজি, পাইকারি বাজারে তা ২৬ টাকা আর খুচরা বাজারে ২০০ টাকা। কেন? এরকম বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুঁয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস হারিয়ে যায় হাহাকারের মধ্যেই। মনিটরিংয়ের অভাবে সুযোগ সন্ধানীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, বাজার নিয়ে আশাবাদী হতেই ভয় পায় মানুষ। বাজারের অনিয়ম বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা ছাড়া এ অবস্থার অবসান হবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply