২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

13/10/2017 2:30 am0 commentsViews: 10

এফএনএস: নৃশংস, চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাফাই সাÿ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপÿের প্রধান কৌঁসুলি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আগামি ২৩, ২৪, ২৫ অক্টোবর যুক্তিতর্ক ও শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম বর্বরোচিত নৃশংস ও ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে রায়ের তারিখ ধার্য হবে। আইনজীবী আরো বলেন, গত ৩০ মে এ মামলার রাষ্ট্রপÿে সাÿ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপÿে মোট ২২৫ সাÿীর সাÿ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর আসামিপÿে সাফাই সাÿ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকার ১ নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। স্পর্শকাতর ও আলোচিত এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জন সাÿ্য দিয়েছেন। এরপর আসামিদের আত্মপÿ সমর্থনে বক্তব্য পেশ ও আসামিপÿের সাফাই সাÿ্য নেওয়া হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিলøুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচÐ শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পুলিশের তদন্তের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। পরে মামলাটি যায় সিআইডিতে। ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল কবির জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপÿ মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। আদালত সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ৫২ জনের মধ্যে ১৯ জন পলাতক, আটজন জামিনে এবং বাকিরা বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসি হয়। মামলার আরেক আসামি মুফতি হান্নানের ফাঁসি হয়েছে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায়। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ জামিনে রয়েছে। পলাতকদের মধ্যে তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মধ্যপ্রাচ্যে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ কলকাতায়, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোরসালীন ও তার ভাই মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের একটি কারগারে এবং মওলানা তাজুল ইসলাম দÿিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে বলে সূত্র জানিয়েছে। জঙ্গিনেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ডিএমপির তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) ও ডেপুটি কমিমনার (দÿিণ) মো. ওবায়দুর রহমান এবং খান সৈয়দ হাসানও বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে আরেক আসামি (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা) হারিছ চৌধুরীর অবস্থান জানা য়ায়নি। পলাতকদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন আটক সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই।

Leave a Reply