তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলামিত্রের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

13/10/2017 1:03 am0 commentsViews: 10

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: ইলামিত্রের তেভাগা আন্দোলনের ৬৯ বছর পরও যাদের জন্য এ আন্দোলন ছিল, আজও সেসব আদিবাসী কৃষকরা বঞ্চিত। মূলত মোট উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে চাষি আর এক ভাগ জমির মালিক-এই দাবি থেকেই তেভাগা আন্দোলনের সূত্রপাত। আর ১৯৪৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার চন্ডীপুর, কেন্দুয়া, কুসবাডাঙা, রাউতাড়া, ধরমপুর ও ঘাসুড়া এলাকায় সংগঠিত হয় এই ঐতিহাসিক আন্দোলন। আজ শুক্রবার সেই আন্দোলনের নেত্রী ইলামিত্রের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।
এদিকে ইলামিত্রের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলৰে ইলামিত্র সংসদের উদ্যোগে নাচোলের কেন্দুয়ায় তার স্মৃতিসৌধে পুষ্পসৱবক অর্পণ, গীতা পাঠ, পূজা-অর্চনা, ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
উলেস্ন্লখ্য, তেভাগা আন্দোলন চলাকালে ইলামিত্র ১৯৫০ সালে ৭ জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। পরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কলকাতায় চলে যান এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় সিপিএম থেকে ৪ বার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতায় তিনি মারা যান।
ইলামিত্রের মৃত্যুবার্ষিকীর আগ মুহূর্তে সেই আন্দোলনের সহযোদ্ধা কুসবা গ্রামের চুনকা হেমরমের ভাই লাল হেমরম বলেন, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত কৃষক-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পাইয়ে দেয়ার জন্য এ আন্দোলন হলেও আজও আদাবাসীরা জমি হারা, জোতদার কর্তৃক নিষ্পেষিত এবং বঞ্চিত রয়ে গেছে। এমনকি তেভাগা আন্দোলনের কিংবদনৱী নেত্রী ইলামিত্রের মৃত্যুবার্ষিকী তেমনভাবে পালন করা হলেও তার নামে গড়ে উঠেনি তেমন কোন প্রতিষ্ঠান। লাল হেমরম এ মহিয়সী নেত্রীর নামে রাসৱা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণ করে তার আদর্শকে ধরে রাখার আহ্বান জানান।
আদিবাসী মাতলা মাঝির চাচাতো ভাই রাজা মনহু জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণগোবিন্দপুরের জমিদার বাড়ির ছেলে রমেন মিত্রের বৌ হয়েও ইলামিত্র খেটে খাওয়া শোষিত মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করা এ উপমহাদেশে বিরল। তার মৃত্যুর পর কেন্দুয়ায় স্মৃতিসৌধ, মঠ সংস্কার, একটি রাসৱা ও পাঠাগার তৈরি করা হলেও; তার স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান এবং তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথভাবে জেলায় সর্বত্র পালনের দাবি করেন।

Leave a Reply