সড়ক নির্মাণে ঢিলেমি দূর কর্বন

13/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 26

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাচ্ছন্দময় জীবনের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। কিন্তু এৰেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা জনভোগান্তির কারণ হয়ে উঠলে ৰোভ সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। রাজশাহী নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে স্বস্তির পাশাপাশি মানুষের মনের ৰোভ যেন কাটছে না। রাস্তার যানজট, সিটি ভবনসহ বিভিন্ন মার্কেট নির্মাণে অচলাবস্থার পাশাপাশি কয়েকটি গুর্বত্বপূর্ণ সড়কের দুরবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। রানীবাজার-সাগরপাড়া সড়কের চলাচলকারীদের সঙ্গে কথা বললেই বিষয়টা টের পাওয়া যায়। গতকালের সোনালী সংবাদে বিষয়টি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৩ সালে পুরানো সর্ব রাস্তাটি ভেঙে ৪২ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শুর্ব হলেও তা শেষ হবার লৰণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এ বছরের মধ্যেই কাজটি শেষ হবার কথা। মাত্র ৬০০ মিটারের এই সড়কটির জন্য এত সময় লাগার কথা নয়। দুই পাশের প্রায় ৯০টি দালান ভেঙে রাস্তাটি চওড়া করে ইটের খোয়া ফেলে বেইজ ঢালাই করা হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ আর শুর্ব করা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই যান চলাচলের কারণে ভেঙে-চুরে খানা-খন্দে সয়লাব হয়ে গেছে রাস্তাটি। এ জন্য বর্ষার কারণে দেরি হবার কথা যুক্তিসঙ্গত কিনা ভেবে দেখার বিষয়। কারণ বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই, এটা ধরে নিয়েই কাজের পরিকল্পনা করার কথা। এখন বর্ষার পর আবারও নতুন করে কাজ শুর্ব করতে হবে। তবে এই রাস্তা নিয়ে নির্মাণকারী সংস্থার সাথে বাস্তবায়নকারী সংস্থার কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। ডিভাইডার নিয়ে এরকম কথা শোনা যায়। যদিও তা কোনো পৰই স্বীকার করেনি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে শত ভোগান্তি সত্ত্বেও নির্মাণাধীন সড়কটি দিয়ে চলাচলে বাধ্য মানুষজন কাজ শেষ করতে অস্বাভাবিক বিলম্বের জন্য দুই পৰের রশি টানাটানির কথা উড়িয়ে দিতে পারে না।
উন্নয়ন কাজ চলাকালে কিছুটা দুর্ভোগ হবেই, সংশিৱষ্ট প্রকৌশলীর মুখ থেকে এমন কথার পিঠে আমরা বলতে চাই, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা হলে এমন কথা উঠতো না। এখন সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে খরচও কি বাড়বে না? আর বাড়তি সময়ের জনদুর্ভোগের দায়ই বা কে নেবে? উন্নয়ন কাজে ঢিলেমির পেছনে যে সংশিৱষ্ট পৰগুলির স্বার্থগত কারণ থাকে সেটা এখন কারও অজানা নেই। আইনের শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অনেকেই যে পার পেয়ে যান সেটাও জানা কথা।
জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে যত দ্র্বত সম্ভব সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশিৱষ্ট পৰদ্বয় সচেষ্ট হবেন, এটাই আমরা আশা করি। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারাও বিষয়টির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবেন সেটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply