চাকরি হারাচ্ছেন খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিম

12/10/2017 1:05 am0 commentsViews: 24

স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন, নারী সহকর্মীদের হয়রানি ও গম কেলেংকারিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত রাজশাহীর বহুল আলোচিত খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিম এবার চাকরি হারাচ্ছেন। তার বির্বদ্ধে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খাদ্য অধিদপ্তর তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদর্বল হাসান স্বাৰরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের বির্বদ্ধে আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের চিঠি থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন আবদুর রহিম। অধীনস্থ তিনজন নারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক তার বিরদ্ধে গুর্বতর অসদাচরণের অভিযোগ করেন। আবদুর রহিম এসব নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। এমনকি তার কথা না শুনলে তাদের বদলি করে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।
এ নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রশাসন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুর রহিমের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারিদের বাদ দিয়ে গুদামের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের গুর্বত্ব দেন। আবদুর রহিম সরকারি গুর্বত্বপূর্ণ কাজ দায়িত্বশীল কর্মচারির মাধ্যমে না করিয়ে তার আত্বীয় গুদামের নিরাপত্তা কর্মী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে করান। এ জন্য আসাদুজ্জামানকে অন্য খাদ্যগুদামে থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামে বদলি করে আনা হয়।
রহিমের নামে খাদ্যগুদামে চাকরির নীতিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করার প্রমাণও মিলেছে। মহাপরিচালকের চিঠিতে উঠে এসেছে তার এসব অপকর্মের কথা। এসব কর্মকা-ের কারণে খাদ্য বিভাগে ভাবমূর্তি ৰুণ্ন হয়েছে বলেও উলেৱখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ৪ আগষ্ট ২৪৪৮ নম্বর স্বারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য বিভাগ। তদন্তে রহিমের বির্বদ্ধে আনীত সব অভিযোগের প্রমাণ হয়।
এ কারণে ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ (বি) মোতাবেক খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ আব্দুর রহিমকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ( অনু ও তদন্ত-১) মাহফুজা খাতুন খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিমের দুর্নীতির তদন্ত করছেন বলেও সরকারি এক চিঠিতে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাসটার্মিনাল মার্কেটে আবদুর রহিমের স্ত্রীর নামে রয়েছে ‘আনজুম ইন্টারন্যাশনাল’ নামে অত্যাধুনিক একটি আবাসিক হোটেল। এছাড়া এই মার্কেটে ১৫টি দোকান এবং নওদাপাড়া বাসটার্মিনাল এলাকায় রয়েছে আরও ৪০টি দোকান। এসবের মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
এছাড়াও নগরীতে রয়েছে তার ৪টি বাড়ি এবং ৬টি পৱট। আবদুর রহিমের শ্বশুরবাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের শতাধিক বিঘা জমিও রয়েছে। আব্দুর রহিমের বির্বদ্ধে চাকরি বাাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ও চেক জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

Leave a Reply