আইপিইউ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলছে বাংলাদেশ

12/10/2017 1:07 am0 commentsViews: 8

সোনালী ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ ও তাদের বিনাশর্তে দ্র্বততম সময়ে মিয়ানমারের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) প্রস্তাব রেখেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের পর বিশ্বের বৃহত্তম এই ফোরামের ১৩৭তম সম্মেলনে বিশেষ জর্বরি এজেন্ডা হিসেবে ইস্যুটিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়ার পর বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল সেখানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গে সম্মেলনটি শুর্ব হবে
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া দলটির অন্যতম সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, আইপিইউ’র মোট সদস্য সংখ্যা ১৭৩টি রাষ্ট্র। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সম্মেলনে জর্বরি এজেন্ডা হিসেবে রোহিঙ্গাদের ইস্যুটি রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। এই সম্মেলনে আমাদের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্যই হলো, প্রস্তাবটিকে যুক্তিসংগতভাবে তুলে ধরা এবং আইপিইউ’র মাধ্যমে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা।
সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত সবচেয়ে বড় সংস্থা আইপিইউ’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। গত এপ্রিলে বাংলাদেশে ওই সংস্থার ১৩৬তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়ার ১৩৭তম সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বুধবার রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। তারা ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে যোগদান ছাড়াও একাধিক দ্বিপৰীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
সম্মেলনে বিশেষ জর্বরি এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপনের জন্য ৯টি প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবার। এর মধ্যে ৫টি প্রস্তাবই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিতাড়ন সংক্রান্ত। বাংলাদেশ ছাড়াও মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের পৰ থেকে এসব প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। বিশ্ববাসী তা দেখেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এভাবে টেনে নেয়া একা বাংলাদেশের পৰে কতোদিন সম্ভব? বরং তাদের যে মূল ভূমি মিয়ানমারের রাখাইন, সেখানেই তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির। আইপিইউ সদস্যদের কাছ থেকে এ বিষয়ে দৃঢ় পদৰেপের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এর আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য বাদশা আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্যোগও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। আইপিইউ যেহেতু বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদীয় প্রতিনিধিদের বৃহৎ ফোরাম, সেহেতু জাতিসংঘের পর এখানকার সিদ্ধান্ত অনেক গুর্বত্ব রাখবে। আর সেখানেই জাতিসংঘে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রস্তাবনাগুলোর আলোকেই আমরা আলোচনা তুলে ধরবো।

Leave a Reply