সামাজিক মূল্যবোধ রৰায় কার্যকর পদৰেপ জর্বরি

12/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 24

নারী ও শিশু অধিকার রৰার মত বিষয় নিয়ে দিবস পালন ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানাদির সাথে পালৱা দিয়েই যেন বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের ঘটনা। ঘরে-বাইরে যৌন সন্ত্রাস বৃদ্ধিতে মানুষের মনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির কথাও অস্বীকার করা যায় না। কেন সমাজ এতটা অনিরাপদ হয়ে উঠলো সেটা এখন আর গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পদৰেপ নেয়াটা জর্বরি হয়ে উঠেছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে ৬৮৮ জন নারী বা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জনকে এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৯ জন। শুধু জুলাই মাসেই ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের সংখ্যা ১৬৮। এর মধ্যে ধর্ষণ ৯৭, গণধর্ষণ ১৫, ধর্ষণের পর হত্যা ১১, ধর্ষণ চেষ্টা ২৮, শৱীলতাহানি ১২, যৌননিপীড়ন ৯৫টি। ধর্ষণসহ যৌন সন্ত্রাসের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সামাজিক মূল্যবোধের অবৰয় চরম হয়ে ওঠার প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।
২০১৪ সালে ১৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। পরের বছর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২১ এবং ২০১৬ সালে ৬৮৬। গত ৫ বছরে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে ১৩ হাজার ১২ শিশু। এর মধ্যে খুন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জন, আত্মহত্যা করেছে ৭২৭ আর ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ শিশু। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১০ হাজার ৩২৪টি। এর পাশাপাশি মাদকাসক্তির সংখ্যা ও ঘটনাও উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে, বিশেষ করে তর্বণ-যুবক ও নারীদের মাঝে।
কেন সমাজে মাদকাসক্তি, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, খুন, আত্মহত্যার সংখ্যা এমন উদ্বেগজনক হয়ে উঠলো সেটা গভীরভাবে ভেবে দেখার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা একে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবৰয় হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এ জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রীকতা বৃদ্ধি, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া, রৰণশীলতার ঘাটতি, পর্ণোগ্রাফি ও মানসিক বিকৃতিকে যেমন দায়ী করা হচ্ছে তেমনি বেকারত্ব, আয় বৈষম্য, লৰ্যহীন জীবনের হতাশায় বিভ্রান্তি ও বিপথগামীতার কথাও সত্য। তাছাড়া সামাজিক অগ্রগতিতে নারীদের ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসার সংখ্যা বেড়ে গেলেও তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে বিকৃত মানসিকতার বখাটেরা। সামগ্রিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাও যে প্রকট সেটা তো খালি চোখেই দেখা যায়।
ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, যৌন সন্ত্রাসের মতো অপরাধ দমনে বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতাও অস্বীকার করা যাবে না। এ জন্য সামাজিক অনুশাসন কঠোর করা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অপরাধীদের বির্বদ্ধে দ্র্বত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্র্বত বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ঘটনা যত বাড়বে ততই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজে। এছাড়া পরিবার, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি বেকার তর্বণ-যুবকদের লৰ্যহীন জীবনকে স্বাভাবিক ও হতাশামুক্ত করতে গুর্বত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
এসব লৰ্য অর্জনে মূখ্য ভূমিকায় সরকারের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতৃত্বেও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সমাজকে মূল্যবোধের অবৰয় থেকে রৰা করতে, নারী-শিশুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

Leave a Reply