রোহিঙ্গাদের কারণে দেড়শ’ কোটি টাকার বনজ সম্পদের ৰতি

12/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 8

এফএনএস: মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য এরইমধ্যে ১৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে বলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শরণার্থীদের কারণে কক্সবাজারের পাহাড়, জলা-শয়, সমুদ্র সৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতেরও ৰতি হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স’ায়ী কমিটির বৈঠকে ৰয়ৰতির এই হিসাব দেওয়া হয়। এই প্রেৰাপটে রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সংসদীয় কমিটি। ৰতি কাটিয়ে উঠতে কয়েকটি পদৰেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ সাংবাদিক-দের বলেন, মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে। কিন’ তাদের জ্বালানির কোনো ব্যবস’া নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ৰতি হচ্ছে। টেকনাফ রম্নটের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যনৱ শুধু বনের ৰতি দেড়শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিবেশের ৰতির হিসাব অনেক বেশি। রোহিঙ্গাদের কারণে আগা-মীতে ‘ভয়াবহ’ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে মনৱব্য তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটক-দের যাওয়ার পরিবেশ নেই। পাহাড়-জলাশয় নষ্ট হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ ৰতি হয়েছে, তা নিরূপন করে আগামি বৈঠকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিয়ান-মারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত ২৫ অগাস্ট থেকে সোয়া পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা চার লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। বনের ৰতি কমাতে রোহিঙ্গা-দের জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা সরবরাহের সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। প্রয়োজনে তাদের জন্য বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটির সদস্য টিপু সুলতান বলেন, এর মাধ্যমে বনের ৰতি ৫০ শতাংশ কমে আসবে। রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর যেসব এলাকা ফাঁকা হচ্ছে, সেখানে নতুন করে বনায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিন এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রৰায় প্রয়োজনীয় পদৰেপ নিতে বলা হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। এ পর্যনৱ জলবায়ু ৰতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্তি এবং ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে বিসৱারিত প্রতিবেদন আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুলস্নাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, গোলাম রাব্বানী, ইয়াহ্‌ইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও ইয়াসিন আলী অংশ নেন।

Leave a Reply