বাঘা ও লালপুরে ঘূর্ণিঝড়ে ১৯টি গ্রাম ল-ভ-

11/10/2017 1:07 am0 commentsViews: 66

সোনালী ডেস্ক: মঙ্গলবার রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুরের উপর দিয়ে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় বয়ে যায়। এ সময় বাঘায় স্ট্রোক করে ১ ব্যক্তির মৃত্যু ও লালপুরে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। ঘুর্ণিঝড়ের তা-বে ১৯টি গ্রাম ল-ভ- হয়েছে। গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ শ বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত ও ফসলের ব্যাপক ৰতি হয়েছে।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, বাঘায় ৫২ সেকেন্ডের ঘূর্ণিঝড়ের তা-বে দেড় শতাধিক ঘর বাড়ি ল-ভ- ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব-দৰিণ কোণ থেকে ধেয়ে আসে এই ঘূর্ণিঝড়। উপজেলার আড়ানী পৌরসভা, আড়ানী ইউনিয়ন ও বাউসা ইউনিয়নের আটটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যায় এই ঝড়। ঝড়ে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ৰতি হয়। এই ঘটনায় সাদের আলী নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামের মৃত আবু তাহের আলীর ছেলে। সাদের আলী ঝড়ের আতঙেক স্ট্রোক করে মারা যান বলে জানা গেছে। ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর, খয়েরমিল, আড়ানী ইউনিয়নের হরিপুর, ঝিনা, নূরনগর ও বাউসা ইউনিয়নের দিঘা, খাগড়বাড়িসহ আটটি গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক বাড়ির টিন উড়ে গিয়ে ৰতি হয়েছে। তবে এই ঝড়ে গাছপালা ভেঙে অনেকের বাড়ির ওপর পড়েছে। ঝড়ে আম, লিচু, পেঁপে, আখ, মরিচ, হলুদ, কলা, শাক-সবজিসহ প্রায় ৪ কোটি টাকার ৰতি হয়েছে। ৰয়ৰতির বিষয়টি আড়ানী পৌরমেয়র মুক্তার আলী, বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক, আড়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক নিশ্চিত করেন। গোচর গ্রামের স্কুলশিৰক আমানুল হক জানান, উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে আমার লিচু বাগানের ব্যাপক ৰতি হয়েছে। ১০ থেকে ১২ বছরের পুরোনো আমার ও চাচা আবদুল জলিলের প্রায় ৩০টি লিচু গাছের ৰতি হয়েছে। এতে প্রায় লৰাধিক টাকার ৰতির মুখে পড়েছি। দীঘা হিন্দুপাড়া গ্রামে ২৭টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্ণ টিনের টালা উড়ে গিয়ে বাড়ি-ঘর ল-ভ- হয়ে গেছে। তার মধ্যে রুস্তুম আলী, জালাল, মমেনা, মোতাহার, রবিদাস, বিপৱব, হাফেজ, পলাশ, বিজেন, ফেরদৌস, আশাদুল, আমাল, আশরাফুল, হায়দার, খালেক মাহফুজ, নওশাদ, আরশাদ, আয়েন উদ্দীনের বাড়িসহ দীঘা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে টিনের চালা উড়ে গেছে। এছাড়াও দীঘা অমল সরকারের মন্দির ভেঙে গেছে। ঝড়ের পর পর উপজেলা চেয়ারম্যান জিন্নাত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ও আড়ানী পৌরমেয়র মুক্তার আলী ৰতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, এই ঝড়ে বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন ফসলি জমির ব্যাপক ৰতি হয়েছে। এক যুবক আতঙেক স্ট্রোক করে মারা গেছে।
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে লালপুর উপজেলার ১১টি গ্রাম ল-ভ- হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার আম, কাঁঠাল, মেহগনি গাছসহ ধান, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ৰতি হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন। এদের মধ্যে ৬ জনকে লালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, হাশেমপুর গ্রামের আজাহার আলীর পুত্র আরজেদ আলী (৩২), ঢুষপাড়া গ্রামের ছাদেক আলীর কন্যা শবনাজ (১২), বাকনাই গ্রামের আব্দুল হান্নানের কন্যা মাহি (১৪), ঢুষপাড়া গ্রামের আনজের আলীর পুত্র মিজানুর রহমান মিজা (৪০), রঘুনাথপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর কন্যা তৃষা (১০) ও রঘুনাথপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী আরজিনা খাতুন (৪০)। ৰতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো আরাজি বাকনা চর, মোহরকয়া, মোমিনপুর, বাকনাই, অমৃতপাড়া, ঢুষপাড়া, আকবরপুর, রঘুনাথপুর, লৰণবাড়িয়া, হাশেমপুর ও দিঘা এলাকা।
সরজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লালপুর পদ্মার চর আরাজি বাকনাই এলাকা থেকে ঘন ঘুর্ণায়মান কালো মেঘ শোঁ শোঁ শব্দে মোহরকয়া ও মোমিনপুরের ভেতর দিয়ে অমৃতপাড়া, ঢুষপাড়া, আকবরপুর, রঘুনাথপুর, হাশেমপুর ও লৰণবাড়িয়া হয়ে বাঘা উপজেলার দিঘার দিকে চলে যায়। মাত্র ৪০-৪২ সেকেন্ড স্থায়ী এই ঘুর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ শতাধিক কাচাঁ-পাকা ঘরবাড়ি, কয়েক হাজার গাছপালা, পশুপাখি, ফসলাদি ও বিদ্যুৎ লাইন ৰতিগ্রস্ত হয়েছে । তাৎৰনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ পাপ্পু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহির প্রমুখ।

Leave a Reply