চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

10/10/2017 1:06 am0 commentsViews: 14

স্টাফ রিপোর্টার: যুগ প্রবর্তক চিত্রশিল্পী, চিত্রকলায় ব্যতিক্রমী মাত্রা সংযোজনকারী এসএম সুলতান-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
সংসার বিরাগী এই শিল্পী কৃষক, জেলে, কামার, কুমার তথা পলৱীর শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, সংগ্রাম-সমস্যা চিরন্তনভাবে উদ্ভাসিত করেছেন ক্যানভাসে। তার অংকিত চিত্রের অনুসর্গ হিসেবে এসেছে খড়ের ঘর, খালবিল, গাছপালা, সনাতন চাষের উপকরণ, মাছ ধরার সরঞ্জাম, সংগ্রামের প্রতীক ঢাল, সড়কি, রামদা, বলৱম, লাঠি। কৃষক-কৃষাণীদের তিনি দেখিয়েছেন বীর হিসেবে। তাদের তিনি এঁকেছেন পেশীবহুল শক্তিশালী রূপে। কৃষক-মেহনতী শ্রেণিকে তিনি সব সময়ই এঁকেছেন বলবান হিসেবে।
১৯২৪ সালে নড়াইলের মাসিমদিয়ায় রাজমিস্ত্রী মেছের ধাউড়িয়ার ঘরে জন্মেছিলেন এসএম সুলতান ওরফে লালমিয়া। দারিদ্র্যের কারণে শৈশবেই স্কুলের পাঠ ত্যাগ তিনি পিতার রাজমিস্ত্রী কাজে জোগানদার হিসেবে কাজে লেগে যান। কাঠ কয়লা, কাঁচা হলুদ, পুঁই গাছের ফলের রস দিয়ে নিজেই ছবি আঁকতে থাকেন। স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ এসব ছবি দেখে খুব মুগ্ধ হন। তিনি অর্থ সহায়তা দিয়ে লালমিয়াকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। স্কুলের ছাত্রাবস্থায় তিনি বিখ্যাত রাজনীতিক, শিৰাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি এঁকে খ্যাতি অর্জন করেন। লেখাপড়া ৰ্যান্ত দিয়ে লালমিয়া পালিয়ে যান কলকাতায় । সেখানে তাকে আশ্রয় দেন শাহেদ সোহরাওয়াদী। আশ্রয়দাতা সোহরাওয়াদী লালমিয়ার নতুন নাম দেন শেখ মুহম্মদ সুলতান সংৰেপে এসএম সুলতান। সোহরাওয়াদী তাকে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি করে দেন। বছর তিনেক ক্লাস করে সুলতান স্কুল ত্যাগ করে ভবঘুরে জীবন শুর্ব করেন। ৫/১০ টাকার বিনিময়ে ছবি আঁকেন রাস্তায় রাস্তায়।
দেশ বিভাগের পর ৫১ সালে চলে যান পাকিস্তান। সেখান থেকে ইউরোপে পাড়ি জমান। বিদেশে ছবি এঁকে অনেক সুনাম অর্জন করেন। ৫৫ তে দেশে ফিরে নড়াইলে চিত্রা নদীর পাড়ে স্থায়ী আবাস গড়েন।

Leave a Reply