বিমানবন্দর সড়কে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

10/10/2017 1:09 am0 commentsViews: 38

তৈয়বুর রহমান: বিমানবন্দর সড়কের স্টেডিয়াম সুপার মার্কেট হতে শহর সমাজ সেবা অফিস অংশটিতে পানি জমে থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। সামান্য বৃষ্টি হলেই আশপাশের পানি এসে জমা হয় সড়কের ওপর। সেখানে পানি জমা হওয়ায় সড়কটি থাকে কর্দমাক্ত । পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা মাছি। জমে থাকা কাদা ও পানিতে পরিবেশকে করছে দূষিত ও দুর্গন্ধময়। ভোগান্তি বাড়ছে পথচারী ও আশপাশের মানুষের।
সড়কের পাশ দিয়ে যে ড্রেন রয়েছে তা সড়ক থেকে উঁচু হওয়ায় ড্রেনের পানি গিয়ে জমা হচ্ছে সড়কে। আর নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। একই সাথে সড়কের পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি বড় পুকুর। আশপাশ এলাকার পানি জমা হয় পুকুরে। উক্ত পুকুরের পানি তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় উপচে এসে জমা হয় সড়কে। যা জলাবদ্ধতার সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলেছে।
সড়কের পশ্চিম পাশে রয়েছে শহর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়। আর পূর্ব পাশে অবস্থিত রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও রাজশাহী শিৰা বোর্ড স্কুল এন্ড কলেজ । সেখানে শতশত শিৰার্থী লেখা-পড়া করতে আসে। ঐ সব শিৰা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে শিৰার্থীদের অতিক্রম করতে হয় পচাদুর্গন্ধময় কর্দামক্ত পানি। আর সড়কের দুই পাশে রয়েছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই সড়কটি খুবই গুর্বত্বপূর্ণ। দিন -রাত শতশত যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক পথে। জলাবদ্ধতার ফলে সড়কটি নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। পানি জমে থাকায় যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।
স্টেডিয়াম সুপার মার্কেট হতে শহর সমাজ সেবা অফিস সম্মুখ পর্যন্ত সড়কটি পানি জমে থাকায় চলাচলকারী পথচারিদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এর ফলে আশপাশের শিৰা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে পানি নিষ্কাশনের জন্য রাসিকের পৰ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান লিটন বলেন, ঐ সড়কটি রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিন। তাই এ ব্যাপারে রাসিকের কোন দায়িত্ব নাই। তবে সড়কটিতে পানি জমে থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।
রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যৰ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পানি জমে থাকা সড়কটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একেবারে গেটের সামনে। এতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরাই বেশি ভুক্তভোগি। তাই অবিলম্বে সড়কটির পানি নিষ্কাশন করে এ এলাকার পরিবেশ রৰায় সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সড়কটির চারিধারে রয়েছে বিভিন্ন মার্কেট। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সম্মুখস্থ মার্কেটের কসমেটিকস দোকানদার সেলিম, ফিজু, হেলাল, সাকিব বলেন, সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় ক্রেতারা এখানে আসে না। সড়কের পাশের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মার খাচ্ছে। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য আর চলছে না। তারা অবিলম্বে সড়কের পানি নিষ্কাশনের দাবি জানালেও কোন কাজ হয়নি। বাস চালক সমিতির চেক পোস্ট মাস্টার রেন্টু বলেন, সড়কটির অবস্থা দেখে মনে হয় না যে এটি একটি শহর। এটা দেখে মনে হয় এটা একটা অজো পাড়া গাঁয়ের রাস্তা। তিনি বলেন, এটা দেখার কেউ নাই।
তাদের দাবি অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে এ এলাকার পরিবেশ রৰা এবং এলাকার মানুষের চলাচলকে নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নেয়া হোক। স্থানীয় গৃহবধূ ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে ওঠায় ছেলে-মেয়েসহ আমাদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হয়। রিকশা-অটো থামতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসলেও দেখার কি কেউ নেই ? তিনি অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।
কর্তৃপৰের বক্তব্য: বিমানবন্দর সড়কের স্টেডিয়াম সুপার মার্কেট হতে শহর সমাজ সেবা অফিস পর্যন্ত সড়কে পানি জমে থাকায় ঐ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিৰা প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার ৰেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সড়কের পানি নিষ্কাশন দরকার কি না জানতে চাইলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান এ অবস্থার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন, সড়কটির ৪ লেনের কাজ শুর্ব হবে। সেই কারণে পানি নিষ্কাশনে দেরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্র্বত পানি নিষ্কাশনের সরঞ্জামাদি না থাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করি পানি নিষ্কাশনের কাজ দ্র্বত শুর্ব হবে। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি চিঠি দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন এবং অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশনের পৰ থেকে সড়কের জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

Leave a Reply