এই ছিনতাইকারীরা কি অপ্রতিরোধ্য!

08/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 50

পরিচ্ছন্ন নগরীর সাথে শান্তির নগরী হিসেবেও পরিচিত রাজশাহী। এখানে তেমন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল কদাচিৎ। কিন্তু মনে হয় দিন বদলে যাচ্ছে। ইদানিং দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। তাও আবার ডিবি পুলিশের পরিচয়ে। ফলে নগরবাসীর উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে। সর্ষের মধ্যে ভূতের অবস্থান নিয়েও কানাঘুষা শুর্ব হয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে একই কায়দায় তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নগরবাসীকে চমকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মতিহার থানার বাইপাস সড়কে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে অস্ত্র হাতে তলৱাশির নামে গাড়ি থামিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে নেয়। সোমবার দুপুরে একই কায়দায় রানীবাজারে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুই ছিনতাইকারী এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ তলৱাশির কথা বলে ভেতরে থাকা ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এর দু’দিন আগে পবার কসবা এলাকায় সন্ধ্যার দিকে এক ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল ছিনতাই হয়। এখানেও অস্ত্রধারীরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের দেহ তলৱাশির কথা বলে ভাঁওতা দেয়। এছাড়াও শনিবার মহিষবাথান গোরস্থান রাস্তায় এবং বুধবার ভেড়িপাড়া মোড়ে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় যথাক্রমে ৪ হাজার টাকাসহ মোবাইল ও ১২ হাজার টাকাসহ মোবাইল ছিনতাই হয়েছে। এ সব ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। জিডি করার সময় টাকার উলেৱখ ছাড়াই মোবাইল হারানোর কথা লেখা হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ গ্রহণে থানা পুলিশের অনাগ্রহের কথা তো আছেই।
দিনে দুপুরে অস্ত্রধারীদের ডিবি পরিচয়ে এসব ছিনতাই ঘটনার একটিরও সুরাহা করার বা অগ্রগতিরও খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশি তদন্তে চমকে ওঠার মতো তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জনা ত্রিশের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা সবাই ভদ্রঘরের সন্তান। তাদের কারও বাবা বিদ্যালয়ের শিৰক, কেউবা বড় ব্যবসায়ীর ছেলে। কারো বাবা চাকরিজীবী বা রাজনৈতিক দলের নেতা। কেউবা নিজেই বড় দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা। এসব মুখোশের কারণেই এই ছিনতাইকারীরা এখন পর্যন্ত পার পেয়ে যাচ্ছে, বলা যেতেই পারে।
ছিঁচকে চোর-ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ যতটা পারদর্শী এই অভিজাত অপরাধীদের ৰেত্রে তেমনটা না হওয়াই কি এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে? ধরার চেষ্টা চলছে, তদন্ত চলছে, উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং চলছে সংশিৱষ্টদের এ ধরনের জবাব থেকে এমন ধারণা হলে কি খুব দোষ দেয়া যাবে? তাছাড়া সমাজের প্রভাবশালী বা তাদের সন্তানদের অপরাধ দমনে পুলিশকে যে একটু ভেবে চিন্তে এগুতে হয় সেটাওতো অস্বীকার করা যাবে না। এৰেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে এমনটা আশা না করাই ভালো।
তবে যদি এমন অবস্থা চলতেই থাকে তবে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরমে উঠবে সেটা বলার অপেৰা রাখে না। তবে এই ছিনতাইকারীরা তো অপ্রতিরোধ্য হতে পারে না! সরকার যখন অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিচ্ছে সেখানে ভদ্রঘরের এই নতুন অপরাধীদের দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতাই দেখতে চায় সবাই। অপরাধী সে যেই হোক, তার মুখোশ খুলে দিয়ে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখী করা না গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা যে কঠিন হয়ে উঠবে, সেটা তো সবার জানা।

Leave a Reply