পবিত্র আশুরার শিৰা হোক চলার প্রেরণা

01/10/2017 1:04 am0 commentsViews: 23

আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। আরবি আশুরা শব্দটি আশর্বন থেকে আগত। আশর্বন অর্থ দশ আর আশুরা অর্থ দশম। হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ বিশেষভাবে মুসলিম সমাজে আশুরা নামে পরিচিত।
আজ থেকে প্রায় ১৩৭৯ বছর আগে হিজরি ৬০ সনের আশুরার দিনে আরবের কারবালা মরু প্রান্তরে ইতিহাসের নৃশংসতম ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এদিন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে শহীদ হন তারা। সত্য ও ন্যায়ের পৰে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইয়াজিদ বাহিনীর নৃশংসতার শিকার হন। অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ন্যায়ের আদর্শের জন্য আত্মত্যাগে মহিমান্বিত এই স্মৃতি বিজড়িত কারবালার শোকাবহ, মর্মস্পর্শী, হৃদয়বিদারক ও বিষাদময় ঘটনা স্মরণে প্রতিবছর পবিত্র আশুরা পালিত হয়। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের মহান আত্মত্যাগ স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় দিনটি পালন করে থাকে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে।
আশুরার এই দিনে অন্যায়, অবিচার, স্বৈরশাসনের বির্বদ্ধে এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কারবালার রণাঙ্গনের সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে মুসলিম সম্প্রদায় অসত্য, অধর্ম ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শিৰা গ্রহণ করে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসাইন (রা.), তার পরিবার ও অনুসারীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তবুও অসত্য ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। ন্যায়নীতির প্রশ্নে আপস না করে বিশ্ববাসীর কাছে অন্যায়ের বির্বদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায়ের পৰে ইস্পাত দৃঢ় প্রতিরোধ সংগ্রামের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স’াপন করে গেছেন। কারবালা প্রান্তরের সেই বিয়োগায়ন্তক ঘটনার শিৰা আজও অতুলনীয়, অনুকরণীয় হয়ে আছে।
ঐতিহাসিক ১০ মহররম পবিত্র আশুরা দিনটি বিশ্বমুসলিম তথা সমগ্র মানবজাতির জন্য একাধারে শোকাবহ ও বরকতময়। চিরকাল বিশ্বের নির্যাতিত, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কাছে অন্যায়ের বির্বদ্ধে সোচ্চার হবার দিক নির্দেশনা ও প্রেরণা জোগায় এই ঘটনা। ইবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে সেই সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে চিরভাস্কর হয়ে ওঠে পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী ‘মজলুমের মুক্তি আর জালিমের শাস্তি।’ যা অন্যায় ও অত্যাচারের বির্বদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পৰে চলার প্রেরণা জোগায়।
পবিত্র আশুরার চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হোক। বিশেষ করে ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সকলকে সোচ্চার হতে আশুরার শিৰা তৎপর্যপূর্ণ। সমাজ থেকে সকল প্রকার অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক বিশ্বজুড়ে এটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply