শুধু দাম বৃদ্ধি নয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও জর্বরি

26/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 18

চালের দাম বৃদ্ধির দুর্ভোগ সামাল দিতে না দিতেই আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির খবরে অস্থিরতা দেখা দেয়াই স্বাভাবিক। গতকাল সোনালী সংবাদের প্রথম পাতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানী শুর্বর পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনউদ্বেগ ও ৰোভের খবরও সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
জানা গেছে, ইউনিট প্রতি খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে ৬ থেকে ১৪ শতাংশ এবং পাইকারী বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব পেয়ে গণশুনানী শুর্ব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র পলৱী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ছাড়া আর কোনোটাই লোকসানে না থাকায় দামবৃদ্ধির প্রস্তাবে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তবে বিদ্যুৎ খাতে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করতেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে সংশিৱষ্টদের ধারণা।
২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পর পাইকারি পর্যায়ে ৫ বার এবং খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এবারে বিতরণ কোম্পানীগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ৰেত্রে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৭২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। যদিও পিডিবি নিজেই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এছাড়া বেসরকারি ছোট ছোট বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কিনে নিজে ও বিতরণ কোম্পানীর মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করে থাকে। অষ্টমবারের মত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে অনেকেই দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহীতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সংবাদে স্বাভাবিকভাবেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনিতেই দিনে রাতে বিদ্যুতের অভাবে জনজীবনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার পৰ থেকে নিজেদের অসহায়ত্বের কথাই বলা হয়েছে। নগরীতে দিনে ৯২ থেকে ৯৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৫০ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং নিয়মিত হলেও হাত-পা গুটিয়ে রাখা ছাড়া করার কিছু থাকে না। ফলে লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ স্থায়ী হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে পালৱা দিয়ে বেড়েছে চাহিদা ও দাম। দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির পরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে বিদ্যমান অসন্তোষের মধ্যেই নতুন করে দামবৃদ্ধির খবরে ৰোভ সঞ্চারই স্বাভাবিক।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎখাতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়েই চিন্তা করা দরকার। বিদ্যুৎ চাহিদা, উৎপাদন ও সঞ্চালন বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নে আশু, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদৰেপ ছাড়া স্থায়ী সমাধান আশা করা যায় না। উৎপাদন বৃদ্ধির মত একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনমূলক কর্মকা- বে্যয় ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ৰতি ডেকে আনবে। একইভাবে জনজীবনেও অসন্তোষ বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সবদিক বিবেচনা করে সরকারি- বেসরকারি সংশিৱষ্টজনদের নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জ্বালানি মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে উদ্যোক্তাদের পৰ থেকে। প্রস্তাবটি ভেবে দেখার মতো। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জর্বরিভাবে বিবেচনায় নেয়া দরকার। চাহিদামত সাশ্রয়ীমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার দাবি করে।

Leave a Reply