রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্মিলিত পদৰেপ গ্রহণ জর্বরি

24/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 15

পাশের দেশ মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জাতিগত নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখে লাখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা প্রায় আট লাখে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে এই সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হতেই হয়েছে। কারণ একাত্তরে আমরা একই পরিসি’তির শিকার হয়েছিলাম। সে কথা মনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে উৎপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রৰায় বিশ্বসম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন এখনি বন্ধ করে সকল শরণার্থীকে ফেরত নিতে, তাদের সুরৰা দিয়ে পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন বিশ্ব সভায় দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য সেইফ জোন গঠন ও মহাসচিবকে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের সুরৰার পাশাপাশি সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বির্বদ্ধে দৃঢ় অবস’ান ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। অর্থনৈতিক উন্নতি চাই। মানব ধ্বংস নয়, মানব কল্যাণ চাই।
রোহিঙ্গা সমস্যা যে মিয়ানমারের সৃষ্টি এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। শরণার্থীদের ফেরত নিতে হবে। কারণ, রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি কেড়ে নিয়ে অনুপ্রবেশকারী বাঙালি বলার সুযোগ নেই। অতীতে তারা সেখানকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যও হয়েছেন রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে। তাই সংখ্যাগুর্ব বৌদ্ধদের পৰ নিয়ে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিধনে মিয়ানমার যে গণহত্যার দায়ে দোষী, এ কথা জোরের সঙ্গে বলা যায়।
গণহত্যার বিষয়টি কোনো রাষ্ট্রীয় বিষয় নয়। তাই আন্তর্জাতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বির্বদ্ধে কঠোর পদৰেপ নিতে হবে। বিশ্বের যে কোনো স’ানে সহিংসতা রোধে, শান্তি ও সি’তিশীলতা রৰায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও জাতিসংঘকেই উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের ভূমিকার জন্য ভাষণে ধন্যবাদ জানাতে ভুলেননি প্রধানমন্ত্রী।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিবেচনায় নিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর মত বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। শরণার্থী শিবিরগুলিতে নারী-শিশু-বৃদ্ধ-অসুস’সহ লাখ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক জীবন, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কেই এগিয়ে আসতে হবে সম্মিলিতভাবে। এর কেনো বিকল্প নেই। এর ওপরেই নির্ভর করছে আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি।

Leave a Reply