বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়েও বাণিজ্য !

21/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 45

বাণিজ্য মানেই লাভ। তবে সব ৰেত্রেই লাভের মানসিকতা কাম্য নয়। বিশেষ করে সেবাখাত, ধর্ম ও জ্ঞানচর্চার মত বিষয় বাণিজ্যের ঊর্ধ্বে থাকা নিয়ে বির্তক নেই। এজন্য এসব ৰেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস’া আছে। তারপরও অনেককেই সব কিছু ভুলে বাণিজ্যে লিপ্ত হতে দেখা যায়। দুঃখজনক হলেও বর্তমানে সব কিছু নিয়েই বাণিজ্য করা সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসার মত শিৰা ৰেত্রেও বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগের অনৱ নেই।
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উচ্চশিৰা বা জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও বাণিজ্যিক মনোভাব প্রাধান্য পাচ্ছে। স্বাভাবিক আয় ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে নানাভাবে লাভবান হতে বৈধ-অবৈধ পথে বাণিজ্যে মেতে ওঠার অভিযোগের যেন শেষ নেই। ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্যে দলীয় ছাত্রদের মত পরীৰা, ফলাফল, নিয়োগ নিয়েও কর্তৃপৰের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ শোনা যায়। সম্প্রতি ভর্তি নিয়ে বিশৃঙ্খলার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাণিজ্যক দৃষ্টিভঙ্গির অভিযোগ উঠেছে। এৰেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আচার্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশনাও অগ্রাহ্য হবার মত গুরম্নতর অভিযোগও উঠে এসেছে পত্রিকার পাতায়।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে শিৰামন্ত্রণালয় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠকে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীৰা নেয়ার সিদ্ধানৱ নেয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে সাধারণ, কৃষি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে পৃথকভাবে তিনটি কমিটি ও একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেখানে পরের বছর সিদ্ধানৱ বাসৱবায়ন করা সম্ভব না হলেও গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীৰা নেয়ার কথা ছিল। এতে ভর্তিচ্ছু শিৰার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ, হয়রানি ও খরচ কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেলেও তার বাসৱবায়ন হয়নি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰের অনীহার কারণে। ভর্তি পরীৰার আয় হারাতে রাজী না তারা। ২০১৫-১৬ শিৰাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই শুধুমাত্র ভর্তি ফরম বাবদ আয় করেছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেবার নির্দেশনাও কেউ মানেন না বলেও জানা গেছে। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়ার লাভজনক ব্যবস’া রৰা করাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে স’ান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, গত বছর সমন্বিত ভর্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আচার্য রাষ্ট্রপতির দেয়া নির্দেশনাও উপেৰার শিকার হয়েছে। এমন ভূমিকা অন্য সব কিছুর চাইতে বাণিজ্যের পৰে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰের আগ্রহ পরিস্কার করে দেয়।
আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা, শিৰামন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে উপাচার্যদের বৈঠকের সিদ্ধানেৱর পরও সমন্বিত ভর্তির ব্যবস’া উপেৰিত হওয়া দুঃখজনক বলাই যথেষ্ট নয়, এটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লৰ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপনি’ না বলে পারা যায় না। তবে কেন এই অবস’া সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ব্যবস’া সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও সমন্বিত না হলে ভর্তিচ্ছু শিৰার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ, হয়রানি ও অর্থ খরচই শুধু নয়, শুরম্নতেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণাও ভালো হবে না ভুক্তভোগীদের সেটাও ভুলে গেলে চলবে না।
উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রকৃত অর্থেই জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হয়ে ওঠার জন্য বিদ্যমান অবস’ার পরিবর্তন জরম্নরি। বিষয়টি আর অবহেলার শিকার হবে না, সেটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply