অনিয়ন্ত্রিত চালের বাজারে নাভিশ্বাস

17/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 23

আমাদের প্রধান খাদ্য চাল। ধনি-গরিবে এখানে বৈষম্য নেই। তাই চালের ঘাটতি সমাজে অসি’রতা ডেকে আনে। দাম বেড়ে গেলেও মানুষের পকেটে টান পড়ে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে বাজেট মেলাতে।
বেশ কিছুদিন থেকে বাজারে চালের ঊর্ধ্বগতি। রাজশাহীতে প্রতি কেজি চাল ৫০ টাকায় বিক্রির খবর দিয়ে পত্রিকায় বলা হয়েছে, ঈদের আগের থেকে প্রকার ভেদে চালের দাম গড়ে বেড়েছে কম পৰে ১০টাকা করে। এৰেত্রে মোটা-চিকন ব্যতিক্রম নেই। এমন অস্বাভাবিক অবস’ায় সাধারণ মানুষ চোখে অন্ধকার দেখলেও করার কি আছে ?
চালের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি বাজার নিয়ন্ত্রণকারীদের অসি’র করছে কি না সেটা বোঝা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বাজার কীভাবে এতটা অনিয়ন্ত্রিত থাকে সেটাই প্রশ্ন ? এবারে বন্যার কারণে ফসল মার খাওয়ায় চালের সংকটের কথা বুঝতে বেশি বুদ্ধির প্রয়োজন পড়ে না। বন্যা ও অন্যান্য কারণে ১০ লাখ টন ফসলের ৰতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশিস্নষ্ট মন্ত্রী অবশ্য বার বারই আশ্বাস দিয়েছেন। চালের মজুদ নিয়েও আশ্বসৱ করেছেন। কিন’ তার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি। চালের সরকারি মজুদ তলানিতে নেমে আসার কথাও গোপন কিছু নয়। চাল আমদানি শুরম্ন করেও সুফলের দেখা মিলেনি। টনকে টন চাল আমদানির কথা শোনা গেলেও বাজারে কোনই প্রভাব পড়ছে না। বেসরকারি পর্যায়েই দেশে চাল এসেছে প্রায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার টন। বিষয়টা যথেষ্ট গোলমেলে মনে হলে দোষ দেয়া যাবে না। কোনো কারসাজি না থাকলে এমনটা হবার কথা নয়।
অন্যদিকে নির্ধারিত দামে সরকারের ধান-চাল কেনার লৰ্যমাত্রা পূরণ না হবার কথাও জানা গেছে। বাজারে বেশি দামই এর কারণ। মিলাররা ধান-চাল সরবরাহ না করায় তাদের দোষ দেয়ার বেশি করার কি আছে ? বেশি দামে কিনে কে আর কম দামে সরবরাহ করে ? মজুদ রাখার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর পদৰেপ দেখা যাচ্ছে না। ঈদের পর শ্রমিক না আসায় মিল চলছে না বলা হচ্ছে। এ অবস’া আর কত দীর্ঘ হবে? পাইকারী ব্যবসায়ীরাও মূল্যবৃদ্ধির দায় অস্বীকার করে বেশি দামে কেনার কথা বলছেন। অথচ এ দাম কৃষক পায়নি। কখনও পায় না। কৃষকের মতই বাজারে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব বড়ই করম্নণ।
তাহলে সরকার করছে কি সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বাজার দেখভালের দায়িত্ব পালন করতে কাউকেই দেখা যায় না। ফলে সবাই ফ্রি স্টাইলে চলতেই অভ্যসৱ হয়ে বাজারকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ি করা হলেও কার্যকর পদৰেপের দেখা মেলে না। এখন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে জেলা শহরে খোলা বাজারে চাল বিক্রির প্রভাব দেখতে অপেৰা করার বিকল্প নেই। রাজশাহীতেও ১৫টি পয়েন্টে ১৫ টাকা কেজি দরে একজন পাঁচ কেজি করে প্রতি দিনে এক হাজার কেজি চাল বিক্রির প্রভাবই বা কি হবে? এভাবে যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে তবে মানুষ স্বসিৱ ফিরে পাবে। সেটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply