শরণার্থীদের ফেরত নেওয়াই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

14/09/2017 1:07 am0 commentsViews: 18

এফএনএস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া এই সংকটের একমাত্র সমাধান। গতকাল বুধবার কঙবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দেশের দূতরা কঙবাজারে যান। বাংলাদেশের পক্ষে ক্যাম্পগুলোতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। কূটনীতিকদের শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এই সংকট সৃষ্টি করেছে। তাই সংকট সমাধান করতে হবে তাদেরকেই। বাংলাদেশ চায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান। মিয়ানমারের এই আচরণে মানবতার যে ক্ষতি হচ্ছে, তাঁরা (কূটনীতিকরা) সেটা স্বচক্ষে দেখছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন, তাঁরা তাঁদের সদর দপ্তরে বার্তাগুলো আশা করি পৌঁছাবেন যে, তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে নিতেই হবে। এটাই একমাত্র সমাধান, বলেন শাহরিয়ার আলম। আমিও দেখেছি অনেককে কথা বলতে এবং গত মঙ্গলবার আসতে গিয়ে এবং গত সপ্তাহে আসতে গিয়ে কী কষ্ট তাঁদের (রোহিঙ্গা) করতে হয়েছে, পরিবারে কতজনকে ফেলে এসেছেন, পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন, এই তথ্যগুলো তাঁরা (কূটনীতিক) পেয়েছেন। সিইং ইজ বিলিভিং (দেখাই হলো বিশ্বাস করা)। বিলিভ সকলেই করতেন। কিন্তু আজকে দেখার পরে এটা আরো জোরালো হবে এবং সামনের দিনে আমাদের কাজ এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় এটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যোগ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিদেশি প্রতিনিধিরাও। এসময় তারা বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জীবন অনিশ্চিত এবং অমানবিক। এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে নিজ নিজ দেশে গিয়ে আলোচনা করবো। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার ডাকে এগিয়ে আসায় বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জানান তারা। এ সময় তারা বাংলাদেশের প্রশংসাও করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সমস্যা তাদের নিজেদের দেশের। মিয়ানমারের এই সমস্যার কারণে বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাদেরই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। এ ব্যাপারে বিদেশি সকল প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটি রওনা দেয়। পৌনে ১১টার দিকে বিমানটি কঙবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে হামলা হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুর্বষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। সেখান থেকে পালিয়ে আসার রোহিঙ্গাদের দাবি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে গ্রামের পর গ্রামে হামলা-নির্যাতন চালাচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

Leave a Reply