স্বাগতম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

14/09/2017 1:09 am0 commentsViews: 67

রিমন রহমান: সড়ক-মহাসড়কে একটু পরপরই নির্মিত হয়েছে বড় বড় সব তোরণ। রাজশাহী চিনিকল মাঠ থেকে শুর্ব করে মহানগরের অলি-গলি, এমনকি বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে শোভা পাচ্ছে নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুন। এতোসব আয়োজন শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। কারণ, আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী সফরে আসছেন তিনি। স্বাগতম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জেলার চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে শিৰানবিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের প্রশিৰণের সমাপনি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিবেন। পরে দুপুরে পবা উপজেলার হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিবেন। এ জনসভা আয়োজনের সব প্রস্তুতি গতকাল বুধবারই শেষ হয়েছে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেৰা করছে রাজশাহীবাসী। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, উন্নয়নের বার্তা আর নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়েই রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভার বক্তব্যে তিনি আগামী নির্বাচনে ১৪ দল মনোনীত রাজশাহীর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন বলেও ধারণা করছেন তারা।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফার্বক চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি যাই হোক, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে কেউ জনসভার মাঠ ছেড়ে যাবে না। কারণ, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীবাসীর জন্য কী নিয়ে আসছেন তা জানার জন্য সবাই অপেৰা করছেন।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৮ ফেব্র্বয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের একটি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাগমারায় এবং ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহীতে এটি তার চতুর্থ সফর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ। অনেক প্রত্যাশা পূরণের আশায় বুক বেঁধেছেন রাজশাহীবাসীও। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া রাজশাহীতে শিল্প-কারখানার প্রসার ঘটাতে এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করার প্রতিশ্র্বতি জনসভার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দিবেন, এমন আশা করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের সংগঠন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার জন্য ১১ দফার একটি দাবিনামা প্রস্তুত করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৮ দফা দাবি জানাবে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রৰা সংগ্রাম পরিষদ। অন্যদিকে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পৰ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এরই মধ্যে ১৫ দফার একটি দাবিনামা পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি দাবি এই তিন দাবিনামাতেই স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আজ জনসভা মাঠ থেকে রাজশাহীর বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনের মধ্যে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না করতে পারে, সে জন্য সতর্ক রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুরো জেলাতেই তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আর আজ জনসভার মাঠ এবং আশপাশের এলাকা থাকবে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।

Leave a Reply