রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী স্বাগতম

14/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 23

এক নাগারে দুই মেয়াদে ৰমতাসীন মহাজোট সরকারের আমলে চতুর্থবারের মত রাজশাহী এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারে তিনি হাইটেক পার্কসহ ২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রতিবারই রাজশাহীর উন্নয়নে তার আগ্রহের প্রমাণ পেয়েছে রাজশাহীবাসী। প্রতিশ্র্বতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতাও প্রমাণিত। তাই তার আগমন উপলৰে রাজশাহীবাসীর মনে নতুন প্রত্যাশা জাগবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাই। এর মধ্যেই রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের পৰ থেকে রাজশাহীর উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শিৰানগরী রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের অভাব সাদা চোখেই ধরা পড়ে। এর সমাধানে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের চাহিদা অনেক দিনের। তাই বন্ধ রেশম কারখানা ও টেঙটাইল মিল চালুর পাশাপাশি আম, পেয়ারা, টমেটো জাতীয় ফল সংরৰণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের গুর্বত্ব বুঝিয়ে বলার অপেৰা রাখে না। তবে শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস যেমন অপরিহার্য তেমনি পণ্য পরিবহনে প্রয়োজন দ্র্বত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ জন্য শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও সিএনজি স্টেশন প্রতিষ্ঠাসহ বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেললাইন স্থাপন, ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস, পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার দাবি খুবই যুক্তিসঙ্গত। এছাড়া রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত এবং কার্গো বিমান সার্ভিস চালুর দাবিও গুর্বত্বপূর্ণ। রাজশাহীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, গোদাগাড়ী থেকে বাঘা উপজেলা পর্যন্ত পদ্মার বামতীর সংরৰণ, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পের দ্র্বত বাস্তবায়নের দাবিও উঠেছে। রাজশাহীবাসীর এসব দাবির সাথে দ্বিমত করার সুযোগ নেই।
কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব দার্বণভাবে অনুভূত হয়। কৃষি ও কৃষকের দীর্ঘকালের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির গুণাগুণ ভেদে ফল ও ফসলের নতুন জাত, বীজ, পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে শিৰা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বলার অপেৰা রাখে না। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিশেষ করে নারী শিৰার উন্নয়নে আরও একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও জনপ্রিয়। এসব দাবিতে স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক-ব্যবসায়ী-পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দল মত নির্বিশেষে রাজশাহীবাসীর সমর্থন নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে।
আমরা রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার আশা রাখি। উত্তরাঞ্চলের পশ্চাদপদ পরিচয় মুছে ফেলে জাতীয় অগ্রগতিতে সমতা প্রতিষ্ঠায় রাজশাহীর পরিকল্পিত উন্নয়নে মহাজোট সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভরষা রাখে রাজশাহীবাসী। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সফল হোক!

Leave a Reply