বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হলের মাঠ। হঠাৎ স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের তোড়জোড়। রাস্তার দু’ধার ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। উড়ে এলো হেলিকপ্টার। শিৰার্থী ও গ্রাজুয়েটদের মধ্যেও কৌতুহল। কে এলেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা জানালেন- রাষ্ট্রপতি এখন (গতকাল) নয়, আসবেন শনিবার (আজ)। ওটা ছিল মহড়া। গতকাল দুপুরে ও বিকেলে ক্যাম্পাসে দু’দফা এমন মহড়া চোখে পড়েছে। যা ভিন্ন মাত্রা এনে দেয় দশম সমাবর্তন উৎসবে।
শুধু রাষ্ট্রপতিকে বরণে দিনভর মহড়া চলছিল তা নয়। আজকের সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা গ্রাজুয়েটরাও ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের প্রস্তুতের মহড়ায়। ইতোমধ্যেই গাউন, ব্যাগ হাতে পেয়েছেন তারা। তা সঠিকভাবে পরিধানের কৌশল রপ্ত করতে ব্যতিব্যস্ত গ্রাজুয়েটরা। অতঃপর আবেগাপৱুত হয়ে ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়া। কখনও একক ছবি। কখনও বা ব্যস্ত বন্ধুদের সঙ্গে গ্র্বপ ফটো তোলায়। কেউবা গাউন ও ক্যাপ পরে ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার সামনে তুলছেন ছবি। গতকাল শুক্রবার দিনভর ক্যাম্পাস ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
তাদের একজন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক শিৰার্থী লুৎফর রহমান। দুই দিনের ছুটি নিয়ে সমাবর্তনে অংশ নিতে এসেছেন। অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাবর্তন মানেই ভিন্ন এক অনুভূতি। রেজিস্ট্রেশনের পর থেকে উৎসবে আসার অপেৰায় ছিলাম। কিন্তু বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে দার্বন অনুভূতি। চিরচেনা মতিহারের সাজ সাজ রব। আশা করছি- দিনটি স্মরণীয় থাকবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিৰার্থী সাইদুর রহমান বলেন, অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় দিন পার হয়ে গেল। পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থনের মজাই আলাদা। দিনটি খুব উপভোগ করতে চাই।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, গোটা ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সাবেক-বর্তমান শিৰার্থীদের মধ্যে গল্প-আড্ডায় প্রাণোচ্ছ্বল পরিবেশ। গ্রাজুয়েটদের নিয়ে বিভিন্ন বিভাগ স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অজুহাতে ক্যাম্পাসের সব ধরনের দোকান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাজুয়েট ও তাদের সঙ্গে আসা অতিথিরা। প্রক্টরিয়াল বডি বলছে- ক্যাম্পাসে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়, এজন্যই দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবাসিক হলগুলো বন্ধ রাখা হবে। রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় শিৰার্থীদের হল থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজলা গেট, চার্বকলা গেট, স্টেশন গেট বধ্যভূমি গেট বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র প্রধান গেট এবং বিনোদপুর গেট খোলা থাকবে। তবে সকল গেট দিয়ে সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্রাজুয়েটরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকেলে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েট ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। চলাচলের সময় সকল শিৰক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোহাম্মদ আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুর্ব হবে। সমাবর্তনে বক্তা থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুর্বল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, দশম সমাবর্তন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে আসছেন, তাই তাঁর নিজস্ব প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা করছে এসএসএফ। ফলে শিৰার্থীদের চলাফেরাসহ কিছু বিষয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সবাইকে সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে সমাবর্তন উৎসবে মেতে উঠার আহ্বান জানান উপাচার্য।