মাদকাসক্তের একটি বড় অংশই উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠানের শিৰার্থী

13/09/2017 1:02 am0 commentsViews: 5

এফএনএস: দেশের উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিৰার্থীদের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে ৪০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। তার মধ্যে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা ৪ লাখ এবং ওসব মাদকাসক্তের একটি বড় অংশই উচ্চ শিৰা প্রতিষ্ঠানের শিৰার্থী। বর্তমানে দিন দিন মাদকের ভয়াল থাবা আরো ভয়া-বহভাবে দেশের উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠান-গুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিগত কয়েক বছরে এ হার বেড়েছে অস্বাভাবিক-হারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপৰ বাহ্যিকভাবে মাদকের বিরম্নদ্ধে তাদের কঠোর অবস’ানের কথা বললেও কার্যত তা বন্ধে বিশেষ কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ে পরিচালিত এক জরিপে তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেক ছেলে এবং চার ভাগের একভাগ মেয়ে শিৰার্থীই ধূমপায়ী। আর নারী শিৰার্থীদের মধ্যে শতকরা ৬৬ ভাগই চারম্নকলা অনুষদের ছাত্রী। আনৱর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডি-আরবি) পরিচালিত এক জরিপ বলছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের ৪০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। এসব মাদকদ্রব্য সেবন, বহন ও যোগানের সাথে অধিকাংশ ৰেত্রেই ৰমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভি-যোগ উঠেছে। যদিও ওই ছাত্র সংগঠনের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মাদকের বিরম্নদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন মাদক সেবন, বহন ও কর্মকা-ের সাথে জড়িত সন্দেহে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তাদের বেশির ভাগই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসছে। সাম্প্র-তিক বছরগুলোতে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰার্থীদের মধ্যেই ভয়ংকর সব মাদকের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পূর্বে বেশির ভাগ ৰেত্রে ছেলেরা মাদকের শিকার হলেও মেয়েদের তা গ্রহণ করতে তেমন দেখা যেত না। কিন’ বিভিন্ন জরিপ দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে মাদক সেবনের মতো একটি আত্মঘাতী নেশার ছোবল থেকে উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠানের নারী শিৰার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ছেলেদের মতোই ভয়ংকর আকারে মাদকাসক্ত হয়ে উঠছে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনো-বিজ্ঞানীরা তাকে পুরো জাতির জন্য আত্মঘাতী এক প্রবণতা হিসেবে সতর্ক করছে। কিন’ পরিসি’তির উন্নয়নের কোনো লৰণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, গত মাসে দেশের সবচেয়ে বড় শিৰা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনকে ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে হাতেনাতে ইয়াবা ও হিরোইনসহ গ্রেপ্তার করে শাহাবাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা ৰমতা-সীন ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়। মাদকসেবী গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র নেতা আটকদের থানা থেকে ছাড়াতে নানান তৎপরতা চালায়। তাছাড়া প্রায় প্রতি মাসেই ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, ক্যাম্পাস ও একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন কৰ থেকে মাদকাসক্ত অবস’ায় শিৰার্থীদের আটকের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন হলের একাধিক রম্নমও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব রম্নম থেকে এসব মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হয় তা ৰমতাসীন ছাত্র সংগঠন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। ওসব রম্নমে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰার্থী নয়, এমন বহিরাগতরাও যাতায়াত করে থাকে। মূলত বহিরাগত চক্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের জোগান সরবরাহ করে থাকে। আর অর্থের লোভে ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত ৰমতাসীন ছাত্ররাই তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি মাদক সেবনের সাথে জড়িত নয় এমন শিৰার্থীরাও অর্থের লোভে মাদক বহন ও বিতরণের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আবার মাদকের দায়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ৰমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে ঢাবিতে। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অবস’া আরও ভয়াবহ। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ মাদকের গন্ধে ভরে ওঠে। মাদক-সেবীদের একটি বড় অংশই বহিরাগত। কয়েকটি হলের নির্দিষ্ট রম্নম থেকে ওসব মাদকের সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বহিরাগত দুর্বৃত্তরা দিনের বেলায় নির্দিষ্ট ওইসব কৰে মাদক জমা করে। রাতে সেখান থেকে সরাসরি নেশার জন্য চলে যায়। বিশ্ব-বিদ্যালয়টির মেয়েদের হলেও মাদ-কের সরবরাহ রয়েছে বলে জানা গেছে। ছুটির সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস’া থাকে সব-চেয়ে নাজুক। ওই সময়ে বহিরা-গতরা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টি-কেই একটি মাদকের আখড়ায় পরিণত করে। আর এর সাথে থাকে বিশ্ব-বিদ্যালয়ের শিৰার্থীদেরই একটি অংশের যোগাযোগ। ওসব কর্মকা-ে অতিষ্ঠ সাধারণ শিৰার্থীরা বলছে, দেশের সবচেয়ে সুন্দর এ ক্যাম্পা-সের এই একটি নেতিবাচক দিকের জন্য সুনাম মস্নান হচ্ছে। সাধারণ শিৰার্থীরা বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব-বিদ্যালয়টিকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনও করেছে। কিন’ কাজের কাজ হয়নি কিছুই।
সূত্র আরো জানায়, শুধু ঢাবি, জাবি, জবি বা বেরোবিই নয়, দেশের অন্যান্য সরকারি বেসরকারি অধি-কাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অবস’া একই রকম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস’া সবচেয়ে খারাপ। মাদক-বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰার্থীদের মরণ-ঘাতী সব মাদকে জড়িত হওয়ার তথ্য দিচ্ছে। উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিৰার্থীরা সিসা, ইয়াবা, হিরোইন ও ফেনসিডিল এবং অর্থিক-ভাবে নিম্ন ক্যাটাগরির শিৰার্থীরা গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের আঠাজাতীয় মাদকের শিকার হচ্ছে বেশি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশা-সনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। মুখে বিভিন্ন সময়ে মাদকের বিরম্নদ্ধে কঠোর অবস’ানের কথা বললেও বাসৱবিক অর্থে তার কোনো প্রয়োগ নেই।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপৰ বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে মাদকের বিরম্নদ্ধে কঠোর অবস’ানের কথা বলে আসছে। কিন’ সরে-জামিনের চিত্র বলছে ক্যাম্পাস, হল ও বিভিন্ন প্রানেৱ অনায়াসেই চলছে মরণঘাতী এ প্রবণতা। প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে এ কাজের সাথে যুক্তদের আটক করলেও ৰমতা-সীনদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হওয়ায় আইন আদালত তাদের বিরম্নদ্ধে কোনো ব্যবস’া নিতে পারছে না। অধিকাংশ ৰেত্রে থানা থেকেই মাদকের সাথে যুক্তদের ছাড়িয়ে আনছে প্রভাবশালীরা। বিচার বা শাসিৱ না হওয়ায় একাধিকবার আটক হয়েও এ কাজ থেকে বিরত থাকছে না দুষ্কৃতকারীরা। সাধারণ শিৰার্থীরা বলছে, এ অবস’ায় উচ্চ শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলো শিৰাঙ্গনের বদলে মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে উচ্চশিৰা প্রতিষ্ঠানে ৰমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। মাদক সেবনকারী যত বড় নেতাই হোক তার বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নেয়া হবে। গত কিছুদিন আগে কুমিলস্না বিশ্ব-বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক সমা-বেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ মাদকের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘৭১-এ আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। আমরা দ্বিতীয় প্রজন্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাদকের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। আমরা সবাই মিলে দেশকে মাদকমুক্ত করব।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল-য়ের প্রো-ভিসি আবুল হোসেন জানান, ‘আমরা ক্যাম্পাসে মাদকের বিরম্নদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। এ সমস্যা বন্ধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রানেৱ সিসিটিভি বসিয়েছি।

Leave a Reply