চট্টগ্রামে মাজার লুটে র‌্যাব সদস্যদের বিরম্নদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন

13/09/2017 1:02 am0 commentsViews: 6

এফএনএস: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরিফের টাকা লুটের মামলায় চার র‌্যাব সদস্যসহ সাতজনের বিচার শুরম্ন হল। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরে আলম ভুঁইয়ার আদালতে অভি-যোগপত্রভুক্ত সাত আসামির সবার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। আদালত সাৰ্য গ্রহণের জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে বলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আ ক ম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন। বাদীপৰের আইনজীবী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আসা-মিরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে দ-বিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় (দস্যুতা ও ডাকাতি) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) জুলফিকার আলী মজুমদার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (বাধ্যতামূলক ছুটিতে) শেখ মাহমুদুল হাসান, র‌্যাব-৭ এর সাবেক ডিএডি আবুল বাশার, এসআই তরম্নণ কুমার বসু, র‌্যাবের তিন সোর্স দিদারম্নল আলম ওরফে দিদার, আনোয়ার মিয়া ও মানব বড়ুয়া। গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের সময় জামিনে থাকা সাত আসামি আদালতে উপসি’ত ছিলেন। দর-বারের অর্থ লুটের অভিযোগের পর র‌্যাব সদস্যদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেওয়া হয়েছিল। পিপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। এলিট ফোর্স র‌্যাবের উপর জাঁতি কত আশা করে। অথচ এরা দরবার শরিফে ঢুকে সেখানকার লোকজনকে আটকে রেখে দরবার ও মসজিদ সংস্কারের জন্য মানুষের দেওয়া দুই কোটি টাকা লুণ্ঠন করে নেয়। তালসরা দরবারে ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর রাতে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে তলস্নাশির নামে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ আনোয়ারা থানায় র‌্যাব সদস্যসহ ১২ জনেরর বিরম্নদ্ধে মামলাটি হয়। তালসরা দরবারের পীরের গাড়ি-চালক মো. ইদ্রিসের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলফিকার মজুমদারের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে দরবার শরিফে রাখা আলমারি ভেঙে দুই কোটি সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই রাতে দরবার শরিফ থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে। তাদের থানায় হসৱানৱর করা হলেও টাকার বিষয়ে কোনো কিছুই উলেস্নখ করেনি র‌্যাব। এ ঘটনা পরে জানাজানির পর র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে করা তদনৱ কমিটির প্রাথমিক তদনেৱ টাকা লুটের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০১২ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেফতার হন জুলফিকার। তবে ২১ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হন তিনি। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জুলাই জুলফিকারসহ সাতজনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদনৱ) ও মামলার তদনৱ কর্মকর্তা আবদুস সামাদ। ২০১২ সালেই মামলা বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন জুলফিকার ও মাহমুদুল হাসান। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ জুলফিকারের করা রম্নল আবেদনটি হাই কোর্টে বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ১৮ অগাস্ট মাহমুদুল হাসানের পৰে আবেদনটি না চালানোর কথা জানানো হলে সেটিও বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট। এরপর সংশিস্নষ্ট জিআরও শাখায় প্রায় চার বছর আগে জমা পড়া অভিযোগপত্রটি আদা-লতের নির্দেশে বিচারিক আদালতে আসে। পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা জুল-ফিকার আলী মজুমদারের গাড়িচালক ও দেহরৰী ডাকাতির বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য তিনজন সাৰীও জবান-বন্দি দিয়েছেন। আশা করি, অভিযোগ প্রমাণিত হবে।

Leave a Reply