বন্যাদুর্গতদের পর্যাপ্ত ৰতিপূরণ দরকার

13/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 8

এবারের বন্যায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গিয়েছিল। ভেসে গেছে ফসলের খেত, পুকুরের মাছ, ৰতিগ্রস্ত হয়েছে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়া দুর্গত এলাকার মানুষের পৰে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। আশার কথা, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। কৃষকদের দেয়া হচ্ছে বীজ ও সার। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার ৰতিগ্রস্ত সাড়ে ১৭ হাজার কৃষকের পুনর্বাসনের খবর গতকালের সোনালী সংবাদে ছাপা হয়েছে।
এই কৃষকদের মধ্যে ৪ হাজার জন পাবেন গম বীজ, ২ হাজার ৪শ কৃষক পাবেন ভূট্টাবীজ, সাড়ে ৭ হাজার জন পাবেন সরিষাবীজ, ২ হাজার কৃষক পাবেন মুগ ডালের বীজ, ১ হাজার ৫০ জন পাবেন তিলবীজ আর ৩৬ জন পাবেন বিটি বেগুনের বীজ। এ সব কৃষককে ১ বিঘা পরিমাণ জমিতে আবাদ করার জন্য বীজের সাথে সারও বিনামূল্যে দেয়া হবে, যাতে করে বন্যার ৰতি কাটিয়ে উঠতে পারেন তারা।
এর ফলে সংশিৱষ্টরা ৰতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন ঠিকই, তবে রাজশাহীর ৭ উপজেলার ৰতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য তা পর্যাপ্ত বলা যাবে না। জেলায় সবচেয়ে বেশি ৰতি হয়েছে কৃষিতে। আউশ-আমনের ৰতিই বেশি, এছাড়া শাক-সবজি, ডাল, তরিতরকারি, পানের বরজ শেষ হয়ে গেছে। ভেসে গেছে মাছের খামার, পুকুর। ৰতি হয়েছে হাঁস-মুরগী, গবাদি পশুর। বাড়িঘর, রাস্তাঘাটও ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বন্যার ৰতি কাটিয়ে উঠতে সার্বিকভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া না গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। তখন বাধ্য হয়েই হাতের শেষ সম্বল বেঁচতে হবে, হাত পাততে হবে মহাজনের কাছে। যার পরিণতিতে ঋণগ্রস্ততা বাড়বে, বাড়বে অভাব-অভিযোগ।
এছাড়াও খাদ্য সংকট এড়াতে বিভিন্ন ফসলের বীজের পাশাপাশি ধানের চারা দেয়াও ছিল জর্বরি। বিভিন্ন জেলায় দেয়া হলেও রাজশাহীতে ধানের চারা দেয়ার কথা জানা যায়নি। অথচ এই অঞ্চল ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীত আসার আগে চারা লাগাতে পারলে ধান চাষীরাই উপকৃত হতেন না, এর ফলে খাদ্য ঘাটতিও লাঘব হতো। এমনিতেই বাজারে চালের ঊর্ধ্বমুখী মূল্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ধান উৎপানে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে। বিষয়টি গুর্বত্ব সহকারে বিবেচনার দাবি রাখে।
বন্যার বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে কৃষি খাতের ৰতি স্থানীয়ভাবেই শুধু নয়, জাতীয় অর্থনীতিকেও পেছনে টেনে ধরবে সন্দেহ নেই। এ জন্য এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ, সার, মাছের পোনা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির বাচ্চাসহ জীবন নির্বাহ ও ঘরবাড়ি মেরামতে পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়া অপরিহার্য। পরিকল্পিতভাবে ঋণ সহায়তাও জর্বরি। স্থানীয় কর্তৃপৰ যদি প্রকৃত ৰতিগ্রস্তদের মাঝে ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে পারে একমাত্র তবেই বন্যা দুর্গত মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে সৰম হবে, এটা জোর দিয়ে বলা যায়।

Leave a Reply