মান্দায় পুলিশ হেফাজতে সাগরের মৃত্যুর ১১ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদনৱ শুরু

12/09/2017 1:02 am0 commentsViews: 9

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দায় পুলিশ হেফাজতে মনোয়ারুল ইসলাম সাগর মৃত্যু ঘটনার ১১ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদনৱ শুরম্ন হয়েছে। সোমবার বিকেলে নওগাঁর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম ওই ঘটনার তদনৱ শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আদেশের প্রেৰিতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম তার চেম্বারে ৫ জন সাৰীর জবান-বন্দি গ্রহণ করেন। সাগরের ছোবোন ফাতেমাতুজ্জোহরা সাথী, তার স্ত্রীর বড়ভাই মঞ্জুরুল আলম ও নজরুল ইসলাম, প্রতিবেশি সুলাইমান আলী ও মাহবুব আলী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট মান্দার চৌ-বাড়িয়া হাটে সন্ত্রাসী হামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পোরশা উপজেলার হাটখোলা মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ভোরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস’ায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। সাগরের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠে সর্বসৱরের মানুষ। তাদের দাবির প্রেৰিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সাগরের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই সময় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে শুরু হয় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধসহ দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্ত মঞ্চ তৈরি করে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম। পরবর্তীতে এ ঘটনায় একই বছরের ১৫ সেপ্টম্বর সাগরের মা মর্জিনা আলম শাহ মান্দা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদার রহমান, এসআই তোফাজ্জল হোসেন খান, এসআই শাকিল আহমেদ, পোরশা থানার ওসি আনিসুর রহমান, মান্দা স্বাস’্য কমপেস্নক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকতা আইয়ুব আলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলি আদালতে (মান্দা) হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনা তদনেৱ পুলিশের অপরাধ তদনৱ বিভাগকে (সিআইড) নির্দেশ দেন।
২০১১ সালে সিআইডি আদালতে জমা দেয়া তাদের তদনৱ প্রতিবেদনে এ মৃত্যুকে অসুস’তা জনিত মৃত্যু ঘটনা হিসেবে উলেস্নখ করলে বাদি পৰের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আসামি তোফাজ্জল হোসেন খানের করা একটি রিট মামলার আপিলের শুনানি নিয়ে রিটটি না মঞ্জুর করে ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদনেৱর নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩১ মে এই আদেশ দেন। আদেশ গ্রহণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই তদনৱ প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
মামলার বাদিপৰের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, আসামি পৰ বেশ কয়েকবার মামলা-টিকে বিলম্বিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছেন। কিনৱু প্রতিবারই হাইকোর্ট তাদের আবেদন না মঞ্জুর করেছেন। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি রিট আপিলের শুনানি নিয়ে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদনেৱর নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply