আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

11/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 17

নাগরিক জীবনে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতাই স্বাভাবিক। দিন দিন এই নির্ভরতা বাড়ছে, অথচ সরবরাহ সে তুলনায় বাড়ছে না। ফলে সংকট থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও পরিসি’তির চোখে পড়ার মত উন্নতি তেমন একটা দেখা যায় না। লোড শেডিংয়ের ভোগানিৱতে প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে মানুষকে। সেই সাথে আছে দাম বৃদ্ধির ভোগানিৱও। অতি সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।
এবারে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা পর্যনৱ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে করে মোট দামের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে বাড়বে বিদ্যুৎ খরচ। আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনেই এই দামবৃদ্ধি, এটাও তার কথায় জানা গেছে। আগেও এভাবে দাম বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা লোডশেডিংয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি। ফলে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতই হয়ে উঠেছে।
সাধারণত জ্বালানি ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় আমাদের দেশে। আনৱর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এর মধ্যে বাড়েনি বরং গত এক বছর ধরে ক্রমাগত কমেছে। আবার এদেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭২ শতাংশই আসে গ্যাস চালিত উৎপাদনকেন্দ্রগুলো থেকে। ২০০৯ সালের পর দু’বার গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ছয়বার। ফলে এক ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে আগের আড়াই টাকার স’লে এখন প্রায় ছয় টাকা গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। তারপরও রেহাই মেলেনি লোডশেডিংয়ের হাত থেকে। ফলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।
এজন্য চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতির কথাই শুনতে হয়। এৰেত্রে শহর-গ্রামের ভেদাভেদ কমই। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ২১ হাজারের বেশি আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মাত্র সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। এর ফলে ৪টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে লোডশেডিং না করে উপায় থাকে না বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা। সর্বত্রই একই অবস’া। তার পরও রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রাহক সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে চাহিদা আর সরবরাহের ফারাকও কমছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তি ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্নের মীমাংসা খুঁজে পাওয়া যায় না। অব্যবস’া, দুর্নীতির পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনের ত্রম্নটির কথাও এখন আর গোপন কিছু নয়। যে হারে উৎপাদন বেড়েছে সে হারে সঞ্চালন লাইনের উন্নতি ঘটেনি। ফলে ঘন ঘন গ্রিড ফেলের ঘটনায় ভোগানিৱ বাড়ে গ্রাহকদের। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শিৰা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কৃষি, সব খাতেই বিরূপ প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।
তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি এখাতে বিরাজমান অব্যবস’া, দুর্নীতি, দুর্বলতা দূর করাও জরম্নরি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ত্রম্নটি দূর করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এসব দূর হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল জনমনে কিছুটা হলেও স্বসিৱ দিতে পারে। তখন সহনীয় পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি নিয়ে আপত্তি কমে আসাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply