বাজারে চালের দাম কমছে না

10/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 5

ঈদের আগে বাজারে চালের দাম বেশ বেড়েছিল। তখন বন্যা ও সরকারি মজুদে ঘাটতিকেই দায়ী করা হয়েছিল। পরিসি’তি মোকাবিলায় শেষ পর্যনৱ চাল আমদানির সিদ্ধানৱ নেয়া হয়। তারপর আমদানিতে উৎসাহ দিতে দুই দফায় চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। এর ফলে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও আমদানি বাড়তে থাকে। কিন’ এখন, ঈদের পরও চালের দাম কেন কমছে না সেটা চিনৱার বিষয়।
সারা দেশের মত রাজশাহীতেও অসি’র চালের বাজার। মোটা-চিকন সব ধরনের চালই ঈদের আগের চাইতে কেজিতে কমপৰে ২ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু চালই নয়, বাজারে শাক-সবজি, তরি-তরকারি সব কিছুর দামই বেশি। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগার হয়েছে, এতে সন্দেহ নেই।
নগরীর আড়তগুলোতে চালের ঘাটতি দেখা দেবার খবর পাওয়া গেছে। ঈদের পর শ্রমিকদের অনুপসি’তির কারণে চালকলগুলো বন্ধ থাকার ফলেই এই ঘাটতি, এমন কথাও জানা গেছে। এছাড়া ধান ওঠার সময় কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধান মজুদ করে রাখার ফলেও ধানকলগুলোতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ধানের অভাবে মিলগুলো চালু করা যাচ্ছে না, এমন কথাও শোনা গেছে।
এসব বিষয়ে দেখভালের কেউ না থাকার ফলেই যে চালের বাজারে অসি’রতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে তৎপর সিন্ডিকেট চক্র সেটা এখন আর গোপন কিছু নয়। এ বিষয়ে অনেক লেখালেখিও হয়েছে। কিন’ কার্যকর পদৰেপের অভাবে পরিসি’তির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বন্যার ফলে সরকারি মজুদ কমে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেই সংশিস্নষ্টদের ধারণা। সরকারনির্ধারিত ক্রয়মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি হবার ফলে সংগ্রহ অভিযান থমকে দাঁড়িয়েছে। মিলাররা ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে চাল সরবরাহ বন্ধ রাখার কথাও জানা গেছে। আমদানি করা চালের দাম যেখানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি পড়ছে সেখানে দেশে সংগৃহীত চালের দাম ৩৩ টাকা কেজি কমই বলা যায়। এ অবস’ায় সংগ্রহমূল্য ২/১ টাকা বাড়ালে সংগ্রহ বাড়বে নিঃসন্দেহে। যার প্রভাবে বাজারে দাম কমে আসবে এটা জোর দিয়ে বলা যায়।
বন্যার কারণে এমনিতেই পরিসি’তি কিছুটা নাজুক। এর মধ্যেই চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। তাই আমরা সামগ্রিক পরিসি’তি বিবেচনা করেই সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰকে বাসৱবসম্মত সিদ্ধানৱ গ্রহণের অনুরোধ জানাবো। যেকোনোভাবেই হোক বাজারে চালের দাম না কমলে মানুষের দুর্ভোগও যে কমবে না, এতে সন্দেহ নেই। এখন সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারি সিদ্ধানৱ ও তার বাসৱবায়নের ওপর।

Leave a Reply