চিকিৎসা ব্যবস’ার বেহাল দশা

09/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 8

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রৰার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে সংবিধানে। কিন’ অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও চিকিৎসার ৰেত্রে নিশ্চয়তা পাওয়া দুস্কর। পর্যাপ্ত টাকা বা ৰমতা থাকলে দেশে ও বিদেশে সুচিকিৎসা মিলতে পারে কিন’ সাধারণ মানুষের পৰে এর নাগাল পাওয়া কঠিন বৈকি। কি সরকারি কি বেসরকারি কোনো পর্যায়েই এর নিশ্চয়তা নেই। ফলে চিকিৎসা করতে এসে অহরহই প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মত নামকরা হাসপাতালের কার্ডিওলজি বা হৃদরোগ বিভাগের সমস্যা থেকেই সরকারি চিকিৎসা ব্যবস’ার বর্তমান অবস’াটা আঁচ করা যায়। লোকবলের অভাবে এখানে আসা রোগীরা নানাভাবে বঞ্চিত হবার অভিযোগ রয়েছে। প্রফেসরের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার প্রভৃতি পদেও রয়েছে ঘাটতি। টেকনিশিয়ানের অভাবে ইটিটি মেশিনটি অচল হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ক্যাথল্যাব ও ইকো মেশিন পুরনো হয়ে যাওয়ায় এ সবের কার্যৰমতা নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছে। অথচ হৃদরোগে আক্রানৱদের জন্য নির্দিষ্ট ৩২নং ওয়ার্ডটিতে রোগী থাকেন ধারণৰমতার দ্বিগুণেরও বেশি। সুচিকিৎসার আশা নিয়ে আসলেও রোগীদের নানান ধরনের ভোগানিৱর শিকার হতে হচ্ছে নিত্য দিন। এ অবস’ায় অন্যান্য বিভাগ ও ওয়ার্ডের অবস’াও এর চেয়ে খুব বেশী আলাদা হবার আশা করা যায় কি ভাবে?
অন্যদিকে রামেক হাসপাতাল ঘিরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার। এসব স’ানে অহরহই প্রতারণার শিকারে পরিণত হয়ে রোগীদের ভোগানিৱ বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। চিকিৎসকসহ লোকবলের অভাব তো আছেই, ব্যবহৃত মেশিন পত্রও মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়। দীর্ঘদিনের পুরনো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনপত্র ব্যবহারের ফলে প্রায়শই চিকিৎসার ভুল-ভ্রানিৱর ফলে রোগীদের ভোগানিৱর মধ্যে পড়তে হয়। এনিয়ে ভুল বোঝাবুঝি, বিবাদ-বিসম্বাদ সৃষ্টি হয়। ভাংচুর, হামলা, মামলার ঘটনাও কম নয়। কিন’ তারপরও পরিসি’তির পরিবর্তনে আশাবাদী হবার মত কিছুই চোখে পড়ে না।
এৰেত্রে দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারা কেন কার্যকর পদৰেপ নেন না সেটা বড় প্রশ্ন। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের স্বার্থগত সম্পৃক্ততা না থাকলে যে এমনটা হতে পারে না সেটাও ধারণা করতে পারে মানুষ। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার প্রবণতা বাড়ছেই। এ ৰেত্রে সমাজের ওপর তলার লোকজনের মত সাধারণের মধ্যেও এই প্রবণতার দেখা মেলে। এর কারণ আর কিছু নয়, এখানকার চিকিৎসাব্যবস’ার বেহাল দশাই মানুষকে বাইরে যেতে প্রলুব্ধ করে।
তাই চিকিৎসাব্যবস’ার ওপর মানুষের আস’া ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান অব্যবস’া দূর করার বিকল্প নেই। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিশৃঙ্খলা-দুর্নীতির কথা কমবেশি সবার জানা। চিকিৎসা নিয়ে রমরমা বাণিজ্যের সুযোগই যে পরিসি’তি নাজুক করে তুলেছে সেটাও ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। কিন’ এ বিষয়ে কর্তা ব্যক্তিদের আশাবাদী কথার বাসৱবায়নের অভাবেই যে পরিসি’তির উন্নতি নেই সেটা সাদা চোখেই ধরা পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের পৰে চিকিৎসা ব্যবস’া নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিনই। আমরা চিকিৎসা ব্যবস’ার উন্নতির পাশাপাশি এর পরিবর্তনের ওপরও জোর দিতে চাই। একমাত্র তাহলেই সুচিকিৎসার দেখা মিলবে।

Leave a Reply