নর্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে

08/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 10

গত ১০/১২ দিন ধরে নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী এই রোহিঙ্গারা সেখানে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। এর মধ্যেই বন্দরবানের নাইখ্যাংছড়ি থেকে শুর্ব করে কঙবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়-জঙ্গল-নদী ও রাস্তার পাশে লাখ দুয়েকের মতো রোহিঙ্গা ভিড় জমিয়েছে। নারী-শিশু-বয়স্ক ছাড়াও মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনে আহতরাও রয়েছে এর মধ্যে। নির্যাতনে ও নদী পথে আসতে নৌকা ডুবে মারা যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের বাধা দেয়া হলেও এখন মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। এজন্য জাতিসংঘের মহাসচিব ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। রাখাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপের মতো মুসলিম দেশগুলো মিয়ানমার সরকার ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির কঠোর সমালোচনা করেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান সহিংসতার সমালোচনা করে মিয়ানমারকে সর্তকও করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন নানা স্তরের মানুষ। বিৰোভ হয়েছে বিভিন্ন শহরে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীনের আপত্তির কারণে রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা হয়নি। চীন নিজ স্বার্থে মিয়ানমার সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মিয়ানমার সফরে যেয়ে রেহিঙ্গা ইস্যুতে সে দেশের সরকারকেই সমর্থন জানিয়েছেন। সে অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতেই যে ভারতের এই ভূমিকা সেটা গোপন কিছু নয়। আমেরিকাও বিষয়টি নিয়ে পর্যবেৰণে থাকার কথা জানিয়েছে। রাখাইন রাজ্যের তেল ও গ্যাস সম্পদের কারণেই বৃহৎ শক্তিগুলোর সতর্ক ভূমিকার কথা গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ভারত সাগরে প্রভাব বিস্তারে চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতার সুযোগও মিয়ানমারকে জাতিগত সহিংসতার পথ ধরতে ইন্ধন যুগিয়েছে বলা যায়।
বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার পথ বন্ধ করার খবর উদ্বেজনক বলা যথেষ্ট নয়। একইভাবে সুচির মুখে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়াও যে দুরভিসন্ধিমূলক তা বলাই বাহুল্য। কারণ মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রাখাইনের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া থেকেই যে সেখানে অশান্তির শুর্ব সেটা তো জানা কথা। এর আগেও সহিংসতার শিকার হয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে কোনো দেশই কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেনি। ফলে নতুন করে সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। তাদের অবস্থা ঠিক একাত্তরের বাংলাদেশের জনগণের মতোই।
আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই যে কোনো ধরনের জাতিগত সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরোধিতা করি। নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করি। সে কারণেই বাংলাদেশ সরকারও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে ও তাদের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পিছিয়ে থাকেনি। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সচেষ্ট হওয়াই এখন প্রধান দায়িত্ব। এ ৰেত্রে সামরিক জান্তা প্রভাবিত নিয়ানমার সরকারের অপপ্রচার ও কূটকৌশলের পাল্টা পদৰেপ নেয়া জর্বরি বলেই আমরা মনে করি। রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর ভাবে এগিয়ে আসবে এটাই সবার কাম্য।

Leave a Reply