যুক্তরাষ্ট্র কিমের সম্পদ জব্দ করতে চায়

08/09/2017 1:02 am0 commentsViews: 3

এফএনএস আনর্ৱজাতিক: পারমাণবিক বোমার সামপ্রতিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা এবং কিম জং উনের সম্পদ জব্দের প্রসৱাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই খসড়া বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা তাদের সিদ্ধানেৱর কথা জানাবেন।
পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা এই খসড়া নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর ভোট করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এটি পরিষদের অন্য সদস্যদের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে রয়টার্স।
গত সপ্তাহে দূর পালস্নার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে জুড়ে দেওয়া যায় এমন একটি পারমাণবিক পরীক্ষার সফল পরীক্ষা চালানোর কথা জানায় উত্তর কোরিয়া। আগে করা পারমাণবিক পরীক্ষার চেয়ে এটি কয়েকগুণ শক্তিশালী বলে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন।
পিয়ংইয়ং বলছে, কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া এবং ধারাবাহিক উসকানির প্রতিক্রিয়ায় তারা একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দিতে প্রশানৱ মহাসাগরে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপ গুয়ামে হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছে তারা।
পিয়ংইয়ংয়ের নতুন পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় আনৱর্জাতিক মহল। উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়ে জরম্নরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
সেখানেই নতুন করে কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রসৱাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির দেওয়া এই খসড়া প্রসৱাবে উত্তর কোরিয়ায় তেল পণ্য সরবরাহ এবং তাদের বস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সম্পদ জব্দ এবং তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির চাহিদাও আছে।
“অনেক হয়েছে; আমাদের এখনি সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থার দিকে যাওয়া উচিত,” গত সপ্তাহে এক প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলেন হ্যালি।
উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায় ওয়াশিংটন। বস্ত্র রপ্তানি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স পিয়ংইয়ংয়ের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম মূল উপাদান।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রসৱাব বিষয়ে রাশিয়া এবং চীনের অবস্থান জানা যায়নি। দেশ দুটি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ায় তেল পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে নানান ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যেও লিপ্ত।
উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও বিপক্ষে তারা। মস্কো ও বেইজিং উত্তর কোরিয়া সংকট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ব্যাপারেও জোর দিয়ে আসছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন জানান, তার দেশ পিয়ংইয়ংয়ে মাত্র ৪০ হাজার টন তেল রপ্তানি করে, যা ‘খুবই নগণ্য’।
নতুন করে অবরোধ আরোপ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচির জবাব হতে পারে না বলেও মনৱব্য করেন তিনি।
চলতি বছরের অগাস্টে উত্তর কোরিয়ার কয়লা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জাতিসংঘ; যার ফলে পিয়ংইয়ংয়ের ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই অর্থ দেশটির রপ্তানি আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বলে জানিয়েছে বিবিসি।

Leave a Reply