কোরবানির চামড়া নিয়ে বিড়ম্বনা

06/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 8

কোরবানির চামড়ার হকদার গরিব-মিসকিন-দুস্থ-এতিমরাই। এবার চামড়ার দাম না পাওয়ায় মূলত এরাই বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা-ব্যবসায়ীরা হয়েছেন বিড়ম্বনার শিকার। সরকার থেকে চলতি বাজার দরের চেয়ে কম দাম নির্ধারণ, চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকদের অগ্রিম টাকা না দেয়া, ৩ বছরের বকেয়া পাওনা বাবদ আড়তদারদের কোটি কোটি টাকা আটকে থাকা, লবণের অতিরিক্ত দাম প্রভৃতি কারণে চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। ফলে ৰতিগ্রস্ত হয়েছেন কমবেশি সবাই।
খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা না থাকার অযুহাতে পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন নগরবাসী। এর ফলে চামড়া বিক্রির টাকার হকদাররাই মূলত বঞ্চিত হয়েছেন। দেশের অন্যান্য স্থানের মত রাজশাহীতেও স্মরণকালের সর্বনিম্ন দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে। অস্বাভাবিক কম দামের কারণে ভারতে চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশিৱষ্টরা। কারণ সেখানে চামড়ার দাম বেশি।
চামড়া নিয়ে সৃষ্ট সংকটের জন্য ব্যবসায়ী-আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের দায়ি করেছেন। তারা গত ৩ বছর ধরে চামড়ার টাকা আটকে রেখেছে ট্যানারি স্থানান্তরের কথা বলে। ফলে পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী চামড়া কিনতে পারছেন না চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে করে চামড়া সংগ্রহের লৰ্যমাত্রা অর্জনে হুমকি দেখা দিয়েছে। উলেৱখ্য, দেশের চামড়ার চাহিদার বেশির ভাগই সংগৃহীত হয় কোরবানির সময়। এবারে কাঙ্খিত সংখ্যায় চামড়া পাওয়া যায়নি বলেই জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সংবাদে সম্মেলন করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে কাঁচা চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছে। সময়মত চামড়া কিনতে ব্যর্থতার দায়ভার চাপানো হয়েছে ব্যাংকের ওপর। ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ না দেয়াকেই সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দায়ি করেছেন তারা। দেরিতে হলেও এর ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখছেন এমনটা ভাবাই যায়।
তবে প্রশ্ন কেন সময় থাকতেই সংশিৱষ্টরা বিষয়টিকে গুর্বত্ব সহকারে নেননি। সরকারই বা কীভাবে অস্বাভাবিক কম দর নির্ধারণ করলো? আর কোরবানির ঠিক আগেই লবণের দামই বা অতিরিক্ত বেড়ে গেল কেন? অভিযোগ উঠেছে। লবণের মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে ৬০০ টাকা বস্তা (৭৪ কেজি) দরের লবণ বিক্রি করেছেন ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। ফলে চামড়ার দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা ব্যয়ে লবণ কিনে চামড়া সংরৰণ করতে হচ্ছে।
এমন বিশৃঙ্খলা দেখার কি কেউ নেই? কেন চামড়া নিয়ে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হবে মানুষকে? দেশের চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এমন বিড়ম্বনার কারণগুলো দ্র্বততার সঙ্গে দূর করার বিকল্প নেই। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোই বা কেন চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে হাত গুটিয়ে রাখে সেটাও বোধগম্য নয়। সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের স্বার্থ রৰায় যথার্থ পদৰেপ গ্রহণই সবার কাম্য।

Leave a Reply