গ্রামীণ উন্নয়নের বেহাল দশা

05/09/2017 1:04 am0 commentsViews: 7

প্রতিটি সরকারের আমলে কমবেশি উন্নয়নমূলক কর্মকা- হয়ে থাকে। তবে বর্তমান সরকার এৰেত্রে তুলানামূলকভাবে এগিয়ে থাকার দাবি করতেই পারে। শহরের তুলনায় কম হলেও গ্রামীণ এলাকাতেও উন্নয়নের ছোঁয়া সাদা চোখেই দেখা যায়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ হবার পর দেখভালে অবহেলা উপকারভোগীদের দুর্দশার কারণ হলেও তা নিয়ে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের মাথা ব্যথা না থাকার ঘটনাও কম নয়। ফলে উন্নয়নের ফল থেকে জনগণকে বঞ্চিত হতে হয়।
সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প গ্রামীণ উন্নয়ন তরাম্বিত করতে ভুমিকা রাখছে। এর আগেও গ্রামের দুস্থ-অসহায়দের জন্য আশ্রায়ণ প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাসজমির ওপর বেশ কিছু আশ্রায়ণ প্রকল্পে ব্যারাক নির্মিত হয় ২০০৮ সালে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ব্যারাকগুলো গরিব ও বাস্তুহারাদের বসবাসে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর আগেও নির্মিত অনুরূপ ব্যারাকে বেশ কিছু পরিবার মাথা গুঁজার ঠাঁই খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু রৰণাবেৰণের অভাবে সেগুলোর এখন বেহাল দশা। পানঘাটা, বালিতিতা, চকসেরপাড়া, অর্জুনপাড়া, চংধুপইল, দুয়ারিয়া. পালৱাডাঙা নদীর পাড়ের ব্যারাকের ঘরগুলি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের টিনে মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় পলিথিন দিয়েও বৃষ্টির পানি ঠেকানো যায় না। দরজা-জানালার কপাট ভেঙে যাওয়ায় চটের বস্তা ও পাটকাঠির বেড়া দিয়েও শেষ রৰা হয় না। ২০১২ সালে পালৱাডাঙা আশ্রায়ণ প্রকল্পের ০৩ নম্বর ব্যারাকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনে ১০টি ঘর পুড়ে গেলেও আজ পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি। কালবৈশাখী ঝড়ে দুয়ারিয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পের ছাদ উড়ে গেলেও এখনও তাতে কারও হাত পড়েনি। এ ধরনের নানান কারণে বসবাসকারীদের সংখ্যা কমে গেলেও নজর পড়েনি কারও। উপজেলা ও জিলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰকে লিখিতভাবে জানিয়েই দায় সেরেছেন।
একই অবস্থা পাবনার সুজানগর স্টেডিয়ামটির। সেটি এখন গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে স্থানীয় জমিদারের দেয়া ৮ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খেলার মাঠটি ১৯৮২ সালে স্টেডিয়ামে পরিণত হলেও দেখভালের অভাবে এখন ধ্বংস হওয়ার পথে। ফলে সেখানে এখন খেলাধুলার পরিবর্তে গর্ব-ছাগল চরে, ধান-চাল শুকানোর কাজ হয়। দেশে এমন অবহেলার দৃশ্য সব জায়গাতেই চোখে পড়ে।
সরকার নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পুরানো উন্নয়ন কাঠামো রৰায় যথাযথ পদৰেপ নিতে অবহেলা করলে এমন দশাই স্বাভাবিক হবে, এতে সন্দেহ কি? ফলে উন্নয়নের ফিরিস্তি লম্বা হলেও এর সুফলভোগিদের দুরবস্থা পরিস্থিতি নাজুক করে তুললে কাউকে দোষ দেয়া যাবে না। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়নের ৰেত্রে এর ব্যত্যয় আশা করা যায় না।
আমরা সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টিকে গুর্বত্ব দেয়ার আহবান জানাই। উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হবার পর যদি সঠিকভাবে দেখাশোনার ব্যবস্থা না থাকে তবে তা মুখ থুবরে পড়বে এটা বলার অপেৰা রাখে না। আশা করি বিষয়টি অবহেলার শিকার হয়ে থাকবে না।

Leave a Reply