এলো ত্যাগ ও উৎসর্গের ঈদুল আযহা

01/09/2017 1:02 am0 commentsViews: 58

ত্যাগ ও উৎসর্গের বারতা নিয়ে আবারও এলো ঈদুল আযহা। আলস্নাহর সান্নিধ্যলাভে হযরত ইব্রাহিম (আ.) কীভাবে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন সে ইতিহাস মুসলমান মাত্রেরই জানা। সেই কঠিন পরীৰায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা থেকেই বিশ্বের মুসলমানরা আলস্নাহর প্রতি বান্দার আনুগত্য, ত্যাগ ও উৎসর্গের নিদর্শন স্বরূপ প্রতি ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। এই কোরবানি হলো সম্পূর্ণ ভাবেই সৃষ্টি কর্তার উদ্দেশ্যে অনুগত বান্দার আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ। যা অবশ্যই ভোগের লালসা ও লৌকিকতার কালিমামুক্ত এবং আলস্নাহর প্রতি নিবেদিত।
ঈদুল আযহার মর্মবাণী হলো সৃষ্টি কর্তার সান্নিধ্যলাভে ত্যাগ ও উৎসর্গ করতে বান্দার সদা প্রস্তুত থাকা। আৰরিকভাবে ঈদ অর্থ আনন্দ বা উৎসব আর আযহা অর্থ পশু যবাই করা। অর্থাৎ ঈদুল আযহার অর্থ দাঁড়ায় পশু উৎসর্গের উৎসব। প্রতীকী অর্থে পশু কোরবানির মানে মানুষের সকল রিপু; কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতার মত বদঅভ্যাসকে কোরবানি দেয়া। এটাই হলো কোরবানির ঈদের মর্মবাণী।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কোরবানীর এই মর্মবাণী আমাদের বাসৱব জীবনে তেমনভাবে প্রতিফলিত হয় না। এমনকি ঈদের দিনেও। ব্যক্তিস্বার্থ, ব্যক্তিপ্রচার, আত্মম্ভরিতা, ভোগবিলাস, অপচয়ে মেতে ওঠাই প্রাধান্য পায়। আধ্যাত্মিকতাকে ছাপিয়ে যায় বস্তুগত বিষয়, আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানির মহিমার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে আত্মপ্রচার, আত্মঅহঙ্কার, রসনাবিলাস তথা ভোজনের বিষয়াদি।
অথচ এই মুহুর্তে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ অনৱহীন দুর্দশায় জর্জরিত। দারিদ্র্য-বেকারত্ব ছাড়াও বন্যার কারণে তারা সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের ঈদ পার হবে শিশু সনৱানসহ পানিবন্দি অবস্থায়। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা দেখানোর সময় আছে ক’জনের? সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই যে ঈদের মর্মবাণী প্রতিফলিত হতে পারে সেটা আমরা ভুলে যাই। অবশ্য ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যক্তি ও সমষ্টিগতভাবে উদ্যোগী হওয়ার ঘটনাও কম নয়।
ঈদের দিনে মুসলমানরা ঈদগাহে একসাথে নামাজ আদায় করে যে যার সামর্থ অনুযায়ী পশু কোরবানি দেবেন। কোরবানির মাংস সঠিকভাবে ভাগ ও বন্টন করার মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেবেন। এখানেও আমরা বানভাসি মানুষের কথা চিনৱায় রাখতে পারি।
এ ভাবে ঈদের মর্মবাণী বাসৱব জীবনে ও বৃহত্তর সমাজে প্রতিফলিত হওয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান সমাজ পাল্টে যাওয়ার গতি তরাম্বিত হতে পারে। হিংসা-বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দূর করে অসাম্প্রদায়িকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিকতার চর্চা ও বিকাশের মাধ্যমেই আমরা লাখো শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। এ ভাবে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল হয়ে উঠতে প্রথমেই আমাদের মনের পশুত্বকে যে কোরবানি দিতে হবে সেটা বলার অপেৰা রাখে না।
কোরবানির এই মর্মবাণী ধারণ করে ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করেই আমরা যেমন আলস্নাহর সান্নিধ্য কামনা করতে পারি তেমনই সমাজকেও শানিৱ-সাম্য-মানবিকতায় ভরিয়ে তুলতে পারি। ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও শানিৱ। আনন্দময় হয়ে উঠুক সারাবিশ্ব। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply