বাগমারা ও বিশেষ প্রতিনিধি: বাগ-মারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পা-দক ইউপি সদস্য আবদুল মানিক প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মামলায় জড়ানোর ভয়-ভীতি দেখা-নোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে নির্যাতিত লোকজন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও আওয়ামী লীগের নেতার বিচার দাবি করে বৃহস্পতিবার বাগমারা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপৰরা এ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, স’ানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মানিক প্রাং ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি লোকজনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। চাঁদা দেয়া না হলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চলেছেন। এরমধ্যে কয়েকজনকে মামলায় আসামি করে মামলা করেছেন।
ঝিকরা ইউপি পরিষদের সাধারণ সদস্য সাইদুর রহমান, আহম্মদ আলী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মকছেদ আলী অভিযোগ করেন, মানিক তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি করতে পুলিশকে সহযোগিতা করে-ছেন। তিনি (মানিক) ওই মামলার অন্যতম সাৰী।
সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত জোয়ান-ভাগপাড়ার রফিকুল ইসলাম অভি-যোগ করেন, একটি ধর্ষণ মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে গত ৩ মার্চ তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা মিঠুন ও আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দুই দফায় ১৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও এলাকার নিরীহ, বিত্তবান লোকজনদের টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকেন। তার বাড়িতে ঝিকরা পুলিশ ক্যাম্প থাকার কারণে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করেন। এছাড়াও ৰমতাসীন দলের স’ানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে লোকজন তাকে ভয় করে।
সম্মেলনে উপসি’ত ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিৰক আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ৰমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে তার একটি জলাশয় দখল করে নিয়েছেন। জলাশয় উদ্ধারে বিভিন্ন দপ্তরে অভি-যোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মানিক প্রাং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো চাঁদাবাজি করা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিভিন্ন মামলার আসামি। স’ানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশে তারা মুচলেকা দিয়েছে। কাউকে হুমকি বা ভয়-ভীতি দেখানো ও পুলিশের প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন।
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ এ ব্যাপারে বলেন, তিনি চরমপন’ী কিনা তা ফাইল না দেখলে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, খুব শীঘ্রই ঝিকরা পুলিশ ক্যাম্প ওই বাড়ি থেকে অন্যত্র স’ানান্তর করা হবে।