জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করলেন হানিফ

13/08/2017 1:08 am0 commentsViews: 27

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও দাওয়াতি মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় এর আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে এই দেশের মধ্যে যেই বিভাজন তৈরি করেছে, স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করে যেই বিভাজন তৈরি করেছে তার কারণে দেশে আজ বার বার হোঁচট খাচ্ছে। এই জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করে যদি এর প্রকৃত তথ্য বের করে আনা যায় তাহলেই বিভাজন দূর হবে আর এই বিভক্ত জাতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান জামায়াতে ইসলামীর গোলাম আজমদের দেশে ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু জামায়াত কখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করেনি। তারা ইসলামের নামে রগ কাটা, গলা কাটার আর জঙ্গিবাদের রাজনীতি করে। তারা মূলত মওদুদীবাদে বিশ্বাসী। বিএনপি-জামাত সব সময় বাংলাদেশের বির্বদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, দেশের জনগণ আজ উদ্বিগ্ন। এই ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেশের মধ্যে একটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমি আদালতের রায় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু আদালতের বিচার্য বিষয়ের বাইরে পর্যবেৰণের কথা বলে জাতির মধ্যে যে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে সেই কথাটা আমি বলতে চাই।
তবে দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে উলেৱখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই এমন রায় হচ্ছে। ষোড়শ সংশোধনীর একটা অনুচ্ছেদে ছিল- কোনো বিচারপতি যদি শারীরিকভাবে অসমর্থতা বা তার বির্বদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সংসদে আসলে সেখানে আলোচনার মাধ্যমে ওই বিচারপতিকে অপসারণের ৰমতা সংসদে রাখতে পারে। এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জনগণের ৰমতাকে হরণ করা হলো।
সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন, সংরৰিত নারী আসনের এমপি আখতার জাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এতে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ সংস্থাটির বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত রাজশাহী বিভাগের আলেম-ওলামাগণ অংশ নেন।

Leave a Reply