দেখার কেই নেই

12/08/2017 1:04 am0 commentsViews: 19

শিৰানগরী রাজশাহী এখন পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের অনেক নগরী থেকে রাজশাহীর পরিচ্ছন্নতা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু পরিচ্ছন্ন নগরীর ব্যস্ততম রাস্তার পাশে মোড়ে মোড়ে খোলা অবস্থায় তৈরি, কেনা বেচা ও খাওয়া হচ্ছে নানান ধরনের মুখরোচক খাবার সেটাও দেখতে হচ্ছে। শুধু রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী নয়, বছর ধরেই চলে তেলেভাজা খাবারের রমরমা ব্যবসা। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বা চেয়ার সাজিয়ে বসার ব্যবস্থা করে ভালোই চলছে খাবার দোকানগুলো। তর্বণ-তর্বণী, নারী-পুর্বষ সবার ভিড় লেগেই থাকে সকাল ও সন্ধ্যায়। এসব দোকানের পাশ দিয়েই চারদিক ধুলোধুসরিত করে ছুটে চলেছে নানান ধরনের যানবাহন। এর মধ্যেই পসরা সাজিয়ে দোকানিরা পরিবেশন করছেন খাদ্য সামগ্রী। এতে করে যে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে সেদিকে নজর দেবার কেউ আছে বলে মনে হয় না।
রাস্তার ধুলো-ময়লা ছাড়াও যে তেল দিয়ে এসব খাবার ভাজা হচ্ছে সেগুলোও পুড়ে কালো হয়ে গেছে। গৱাসে করে যেভাবে পানি দেয়া হচ্ছে তা কতটা পরিষ্কার, জীবণামুক্ত তার খবর কেউ রাখে না। আর যে সব থালাবাটিতে খাবার পরিবেশন করা হয় সেগুলোর পরিচ্ছন্নতার দিকেও কারও নজর আছে বলে মনে হয় না। সকাল-সন্ধায় ফুটপাতের এসব দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। বিভিন্ন বয়েসী শিৰার্থী ছাড়াও এখানে ভিড় করেন সাধারণ পথচারীরাও। খাদ্য পানীয়ের মান নিয়ে ভাবার সময় নেই তাদের। শুধু ফুটপাতের দোকানের খাবারই নয়, রাস্তার পাশের সুসজ্জিত হোটেল-রেস্তরাঁর খাদ্য সামগ্রীও তৈরি হয় ফুটপাতের খোলা পরিবেশে। র্বটি, পরাটা, কাবাব, চিকেন গ্রিল সবই তৈরি হয় রাস্তার পাশে। পরিবেশিত হয় ভেতরের সুসজ্জিত টেবিলে টেবিলে। সে সব খাদ্য-সামগ্রির মান নিয়েও কারও ভাবনা নেই।
কিন্তু নগর কর্তৃপৰ তো আছেন নগরবাসীর ভালোমন্দ দেখার জন্য, তারা কি করেন ? ব্যস্ততম রাস্তার পাশে খোলা পরিবেশে খাবার তৈরি, বিক্রি বা খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা কি নগরীর স্বাস্থ্য রৰার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও হারিয়ে ফেলেছেন ? নগর কর্তৃপৰের নাকের ডগায় কীভাবে এমন কাজ চলছে দিনের পর দিন সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। অথচ সেখানে বসে আছেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অনেকেই। রয়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। তারাও কি নাগরিক সেবার এ দিকটি নিয়ে উদাসীনতার শিকারে পরিণত হয়েছেন ?
রাস্তার ধারে খোলা স্থানে তৈরি ও পরিবেশিত খাবার থেকেই যে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, জন্ডিস, কলেরা, হেপাটাইটিস জাতীয় রোগের জীবানু ছড়ায় সেটা কি অস্বীকার করা যাবে ? অতিরিক্ত তেলে ভাজা থেকে রক্তনালীতে চর্বি জমা, হৃদরোগের মত গুর্বতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। অথচ শিশু-কিশোর-যুবক-বয়ষ্ক নারী-পুর্বষ কেউই ফুটপাতের ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকে না। এনিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পদৰেপও দেখা যায় না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই দিন কাটাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এসব দেখার কেউ নেই।

Leave a Reply