স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নগরবাসী

11/08/2017 1:09 am0 commentsViews: 38

তৈয়বুর রহমান: অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাদ্যের ঝুঁকিতে নগরবাসী। নগরীর প্রধান সড়কসহ পাড়া-মহলৱায় আনাচে কানাচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের খাবার। স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই। এসব খাবার বিক্রি বন্ধের কোন উদ্যোগ নাই রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগের।
নগরীতে এখন শতশত গাড়ি চলাচল করে। গাড়িগুলো এত বেগে ছুটে যায় যে রাস্তার যত ময়লা মাটি উড়ে পড়ে রাস্তার চারি ধারে। ঐসব ময়লা মাটির সাথে থাকে অসংখ্য রোগজীবাণু। আর নিম্নবিত্তের মানুষ যে সব পথ দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে সেই পথেই গড়ে উঠেছে স্বাস্থ্যহীন পরিবেশের খাদ্যের দোকান। সেখানে দিনব্যাপী বেচা-কেনা চলে ভাত, র্বটি, পরাটা, খিচুড়ি, সিংগারা, পুরিসহ নানা ধরনের খাবার। খাবার খোলা অবস্থায় থাকায় চলন্ত গাড়ির ময়লা মাটি এসে পড়ে খাবারে। এতে যেমন ময়লা মাটি পড়ে তেমনি মশা মাছিও বসে। দাম কম থাকায় নগরীতে কাজে আসা খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষ ঐ সব খাবার খেয়ে উদর পূর্তি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ফলে শতশত শ্রমিকের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
বিকেল হবার সাথে সাথে নগরীর প্রতিটি মোড়ে তৈরি হয় ভাজা-পোড়া খাবার। সেগুলো খালি অবস্থায় রেখেই বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। নগরীর কি শিৰার্থী, কি যুবক-যুবতী, কি মধ্য বয়সী সকলে অনায়াসে ভৰণ করছেন ঐ সব খোলা ও স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর খাবার।
সন্ধ্যা লাগলেই সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট হুনুমান জিওর আখড়ার সামনে রয়েছে কয়েকটি ভাজা-পোড়ার দোকান। সেখানে বিক্রি হয় পিয়াজি,মাংসের চপ,চিংড়ি চপ, আলু চপ,রসুনের চপ, সিক কাবাব ও বেগুনি। আর গণকপাড়ার আশপাশে রয়েছে কয়েকটি নামি-দামি খাবার হোটেল।সে হোটেলগুলোও এখন হোটেলের ঘরের ভিতর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে রাস্তার ফুটপাতে। ফুটপাত দখল করে ঢাকনা ছাড়ায় বিক্রি করছে ভাত,র্বটি,পরাটা,মংলাই পরাটা,মাছ মাংস,সিংগারা,সিক কাবাব,ডাল পুরিসহ সকল ধরনের খাবার। এর পাশাপাশি ফুটপাতের কাপড় পট্টির মাঝেই গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাজা-পোড়ার দোকান। সেখানে খালি অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে পিয়াজু, বিভিন্ন ধরনের চপ ও ভাজা সিদ্ধ ছোলা।
আবার সাহেব বাজার বড় মসজিদের পাশেই মুনলাইট ওষুধের দোকানের সামনেই গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাজা-পোড়ার দোকান। সন্ধ্যা লাগার সাথে সাথে সেখানে পড়ে যায় বার্গার খাবারের হিড়িক। সাহেব বাজার কাঁচাবাজারের পাশেই চলে রাস্তার ধারে চলে ভাত,র্বটির কেনা-বেচা। শিরইল বাস টার্মিনাল ও রাজশাহী রেল স্টেশনের সামনে দীর্ঘ দিন থেকে চলছে অপরিস্কার খাবারের বেচা কেনা। রেলগেট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপেৱঙ সামনে বিকেল হবার সাথে সাথে জমে উঠে ভাজা-পোড়ার খাবার হিড়িক। সেখানে একেবারে খালি অবস্থায় বিক্রি হয় বার্গার, পিয়াজু, আলুর চপ,মাংসের চপ,রসুনের চপ,মংলাই পরাটা,সিঙ্গারা। এর সাথে বিক্রি হয় হালিম,চটপটি প্রভৃতিও। একই সাথে রেল ভবনের আশপাশের বাসস্টা্যান্ড সংলগ্ন ড্রেনের ধারে এবং স্টেডিয়াম মার্কেটের সম্মুখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঢাকনাবিহীন অবস্থায় বিক্রি হয় ভাত,র্বটি ও র্বটি। একই ভাবে নগরীর লক্ষ্মিপুর, রাজশাহী কোর্ট ও কোট স্টেশন এলাকাসহ নগরীর অধিকাংশ জনচলাচলকারী এলাকার ফুটপাত ও মোড়ে অপরিষ্কার স্থানে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূর্প ঐ সব খাবার। আর এসব খাবার অনায়াসে ভৰণ করে চলেছেন নগরীর খেটে খাওয়া শ্রমিক ও নিম্নবিত্তের মানুষ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সহযোগি অধ্যাপক ডা:চিন্ময় কান্তি দাস বলেন,রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের রাখা খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস জাতীয় রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তিনি বলেন,এতে ডিসেন্ট্রি,হেপাটাইচিস‘এ’ ,কলেরাসহ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
একদিকে নগরীতে যেমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আবাধে বিক্রি হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর খাবার এর পাশাপাশি অধিকাংশ মোড় ভাজা-পোড়া খাবারে সয়লাব। বিকেল হবার সাথে সাথে ভাজা-পোড়ার দোকানে ছাত্রছাত্রী,যুবক যুবতির আনাগোণায় মুখরিত উঠে। মনে হয় যেন মজমা বসেছে। কিন্তুঐসব খাবার এমন তেল দিয়ে ভাজা হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর। একই তেল দিয়ে বার বার ভাজা-পোড়া খাবার খেলে যে কোন জটিল রোগ হতে পারে। অথচ যে সব ভাজাপোড়া খাবার তৈরি হয় তা দুই বার,তিন বার এমন কি চার বার পর্যন্ত পোড়ানো।
“বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ প্রজেক্ট ডাইরেক্টর রেজাউল করিম (এসএসও বিসিএসআইআর) বলেছেন,ট্রন্স ফ্যাট এক ধরনের ৰতিকর চর্বি যা তেলে ভাজা খাবারের মচমচে বাড়ায় এবং বেশিৰণ ধরে রাখে। এই চর্বি খাবারে স্বাদ বাড়ায় । এটি হাইড্রোজিনেটেড ওয়েল নামেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশে ডালডা বা বনস্পতি হিসেবেও পরিচিত। অতিরিক্ত ভাজার ফলে ঐ সব তেলে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একই তেল বারবার ভাজলে তাতে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়। বেশি পরিমাণ ট্রান্স ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ৰতিকর। নিয়মিত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায় এবং ভাল কোলেস্টরেলের পরিমাণ কমায়। যার কারণে রক্তনালীতে চর্বি জমাট বাঁধে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণকারী ব্যক্তির স্থুলতা ও স্ট্রোক এবং হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি করোনারি হার্ট ডিজিজ -এর অন্যতম কারণ”। অথচ এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া তেলের তৈরি খাদ্য। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তা জেনেও অবাধে ভৰণ করে চলেছেন ছাত্র,যুবক ও সচেতন মহল।
দুই বা তিন বারের অধিক পোড়ানো তেলে সেগুলো ভাজার ফলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ও ৰতিকর বলে জানিয়েছেন আরেক রাজশাহী বিজ্ঞান ও গবেষণার কর্মকর্তা এস ও র্বহুল আমিন। তিনি বলেন, যারা বার বার ভাজা পোড়া তেল দিয়ে তৈরি খাবার খায় তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক । দুই বার তিন বার পোড়ার ফলে ঐ তেলের আর গুণাগুণ থাকে না। এতে মারাত্মক ৰতিকর কেমিক্যাল তৈরি হয়। আর ভাজা পোড়া তৈরিতে যে সব কেমিক্যাল মিশানো হয় তাও স্বাস্থ্যের জন্য ৰতিকর। এমন কি এতে স্টমাকে ক্যান্সারের ঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি জানান।
মাস দেড়েক আগে শেষ হয়েছে রমজান মাস। এই রমজান মাসে ইফতারি হিসেবে ভাজা পোড়ার অসংখ্য দোকান গড়ে উঠেছিল। অথচ এটা দেখেও না দেখার ভান করে কোন উদ্যোগ নেয়নি এর সাথে সংশিৱস্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপৰের।
নগরীতে যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার কেনা বেচা হচ্ছে। তা বন্ধে এ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের পৰ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্তমানে সিটি কর্পোলেশন এ ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কিনা জানতে চাওয়া হলে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, এ সব অভিযান চালাতে ম্যাজিষ্টেটের দরকার হয়। সিটি কর্পোরেশন এ ধরনের কোন সাপোর্ট না পাওয়ায় এর বির্বদ্ধে কোন অভিযান বা বন্ধে কোন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এব্যাপারে চিঠির মাধ্যমে বারবার সাবধান করে দেয়া হয়।

Leave a Reply