এমন অকাল মৃত্যু কেউ দেখতে চায় না

11/08/2017 1:02 am0 commentsViews: 18

দেশের অব্যাহত উন্নয়নের সাথে তালমিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস’াও যে এগিয়েছে সেটা খালি চোখেই দেখা যায়। শহরে বসে এটা অস্বীকার করা না গেলেও মাঝেমধ্যেই ভিন্ন চিত্রও চোখে পড়ে। অব্যবস’া কতটা গুরুতর সেটা হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুরের ঘটনায় কিছুটা হলেও জানাজানি হয়। এসময় চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের পরস্পরকে দোষ দেয়ার প্রতিযোগিতায় প্রকৃত দোষী যে কে সেটা শেষ পর্যনৱ অজানাই থেকে যায়। ফলে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা বা দুর্ঘটনার শেষ হয় না। সম্প্রতি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় গর্ভের সনৱানসহ প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা এ ধরনের সর্বশেষ সংযোজন বলা গেলেও শেষ ঘটনা বলা যাবে না।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সনৱান প্রসবের জন্য দিনমজুর আলম সরদারের স্ত্রী পান্না বেগমকে ওই হাসপাতালে ভর্তির পরপরই অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সিজারিয়ানের সময় সেখানে প্রসূতির মৃত্যু হলে সবার অজানেৱ ডাক্তারসহ হাসপাতালের মালিকও লাপাত্তা হয়ে যান। দীর্ঘসময় অপেৰা করে উপসি’ত স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি টের পেয়ে ৰুব্ধ হয়ে ভাংচুর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন এসে পরিসি’তি শানৱ করে এবং হাসপাতালটি সিলগালা করে যাবার সময় একজন নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। ঘটনা সহজে বলা গেলেও আসলে মোটেই সহজ নয়।
প্রথমত ওই হাসপাতালটি যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছিল কি-না সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তাছাড়া সিজারিয়ান অপারেশন অপরিহার্য ছিল, সেটাও নিশ্চিত নয়। প্রয়োজনীয় পরীৰা-নিরীৰার আলামত পাওয়া নিয়েও সন্দেহ হয়েছে। আর দিনমজুরের স্ত্রী কেনই বা বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে সনৱান জন্ম দেবার ঝুঁকি নেবেন? তারা কি কোনো দালালের পালস্নায় পড়েছিলেন? দেশে সরকারিভাবে জন্মকালীন সময়ে দেখভালের সুব্যবস’ার কথা শোনা গেলেও এৰেত্রে তা অনুপসি’ত কেন? গ্রামীণ স্বাস’্যসেবার ব্যবস’ার কি এমনই বেহাল দশা? এরকম অনেক প্রশ্নই জাগতে পারে, তবে সেগুলির জবাব দেবার কেউ আছে বলে মনে হয় না।
গ্রাম বাংলার তৃণমূলের জনগোষ্ঠীর অসহায়-অনিশ্চিত অবস’ার কথাই নতুন করে জানিয়ে গেলেন সনৱান জন্ম দিতে এসে লাশ হয়ে ফিরে যাওয়া পান্না বেগম। গর্ভের সনৱানকেও তিনি পৃথিবীর আলো দেখাতে পারলেন না। এতটাই কি দুর্ভাগ্য তার! এরকম দুর্ভাগাদের জীবনের অন্ধকার দূর হতে আর কত সময় অপেৰা করতে হবে?
বিষয়টির দিকে যথাযথ কর্তৃপৰের দৃষ্টি পড়বে বলেই সকলের আশা। এরকম হাসপাতাল- ক্লিনিকের সংখ্যা কত সেটাও বড় প্রশ্ন। পান্না বেগম ও তার সনৱানের জীবনের বিনিময়ে ওঠা প্রশ্নগুলির সমাধানে পদৰেপ নেয়া খুবই জরম্নরি। এমন অকাল মৃত্যু কেউ দেখতে চায় না।

Leave a Reply