উৎপাদন বাড়লেও কমছে না লোডশেডিং

10/08/2017 1:04 am0 commentsViews: 16

বিদ্যুৎ উৎপাদন সৰমতায় রেকর্ড সৃষ্টি এখন পুরানো কথা। এনিয়ে জমজমাট অনু্‌ষ্ঠানও দেখতে হয়েছে। কিন’ লোডশেডিংয়ের ভোগানিৱ থেকে রেহাই মিলছে না। দিনে-রাতে যখন-তখন বিদ্যুৎ যায়, আসার ঠিক ঠিকানা থাকে না। এই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ সময় কাটাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গ্রামের অবস’া আরও ভয়াবহ।
জানা যায়, এখন চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশিই হয়। অনৱত পিডিবি’র পরিসংখ্যান তাই বলে। কিন’ তারপরও লোডশেডিং কেন কমে না, সেটা জানা যায় না। তবে জিজ্ঞেস করলে সংশিস্নষ্ট দপ্তর থেকে বলা হয়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় এ অবস’া। শহরে লোডশেডিংয়ের হার কম হলেও গ্রাম এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন কাটাতে হয়। এমন ভয়াবহ অবস’ায় সাফল্যের কথা তেঁতো লাগাই স্বাভাবিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও বিতরণ ব্যবস’ার উন্নতি হয়নি। সংযোগ ও বিদ্যুৎ লাইনের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ-ত্রম্নুটিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণও। সংশিস্নষ্ট সূত্রে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৬০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানা গেছে। দেশে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন রয়েছে যার মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার কিলোমিটারই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে বাকী ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার লাইনও এর বাইরে থাকবে না। তখন বিদ্যুৎ ব্যবস’ায় মহাবিপর্যয় ঠেকানোর উপায় থাকবে না।
এখনই অনেক স’ানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে লোড নিতে না পারায় বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার খবর জানা যায়। গ্রিড স্টেশনের সার্কিট পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস’ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস’ার উন্নতি ঘটাতে না পারলে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কেননা প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে। স’ানীয়ভাবে নতুন সংযোগের উদ্বোধন করা হচ্ছে ঘটা করে। সংযোগ ব্যবস’ার উন্নয়নের সাথে বিতরণ বা সঞ্চালন ব্যবস’া তাল মেলাতে না পারলে বিপর্যয় যে অনিবার্য তা ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
তাই লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিতরণ লাইনের উন্নয়নও জরম্নরি। এৰেত্রে অবহেলা দূর করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কারে হাত দেয়া না হলে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ থেকে রৰা পাওয়ার আশা করা যায় না।

Leave a Reply