যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশীদের বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহ কমেনি

06/08/2017 1:04 am0 commentsViews: 14

এফএনএস ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী নানা পদক্ষেপ সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতে বিদেশীদের বিনিয়োগ আগ্রহে ভাঁটা পড়েনি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ে আনৱর্জাতিক বিনিয়োগের ওপর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, ৩১ মার্চ,২০১৬ থেকে ৩১ মার্চ, ২০১৭ পর্যনৱ ১২ মাসে বিদেশীরা ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৫টি বাড়ি ক্রয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে।
আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এটি ৩ গুণ বেশী। অর্থের হিসাবে এই বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশী।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েল্টর সূত্রে আরো জানানো হয়েছে যে, ২০০৯ সালে বিদেশীদের বাড়ি ক্রয়ের জরিপ শুরম্ন হওয়ার পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ।
নির্বাচনের প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী মনৱব্য এবং ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর একই বিষয়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্বেও এ বৃদ্ধি বিস্ময়কর বটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশী বাড়ি ক্রয় করেছেন চীনারা। বাড়ি কিনতে ৩ হাজার ১৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন তারা। আগের বছরও তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার ব্যায় করেছিলেন।
চীনারা বেশি বাড়ি কিনলেও সবচেয়ে বেশী ক্রেতা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা থেকে। দেশটির আবাসন খাতে চীনা বিনিয়োগকারিদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই কানাডায় বাড়ির দাম বেড়েছে, ফলে দেশটির ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকেছে।
আগের বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যনৱ এক বছরে কানাডিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের। আগের এক বছরে তারা দেশটিতে বাড়ি কিনতে ব্যায় করেছিলেন মোট ৮৯০ কোটি ডলার।
এ প্রসঙ্গে রিয়েল্টর অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান লরেন্স ইয়ুন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অসি’রতা সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ ক্রয়ে বিদেশীদের আগ্রহে কোনই কমতি ঘটেনি, বরং তা আরো বেড়েছে।”
তিনি জানিয়েছেন, কানাডার টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুবারে চীনাদের বাড়ি কেনায় আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে গত কয়েক বছরে বাড়ির দাম আকাশচুম্বি হয়েছে। এর ফলে চীনা ক্রেতাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কমদামে বাড়ি পেয়ে অনেক কানাডিয়ান ক্রেতাও এসেছেন।
প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য যে, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুবারের প্রাদেশিক সরকার বিদেশী ক্রেতাদের জন্যে ট্র্যাক্সের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টরন্টোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ইলি ডেভিস এ প্রসঙ্গে বলেন, “ট্যাক্সের চাপ এড়াতে অনেক ক্রেতা এ দুটি শহরে বাড়ি না কিনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন।”
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েল্টর অবশ্য উলেস্নখ করেছে যে, বিদেশীদের আগ্রহ বাড়লেও তারা এখনও মোট ক্রেতার মাত্র পাঁচ শতাংশ। আগের বছর মোট ক্রেতার চার শতাংশ ছিল বিদেশীরা।
গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যনৱ এক বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় যত বাড়ি বিক্রি হয়েছে, তার ১২ শতাংশ কিনেছেন বিদেশীরা। টেক্সাসেও প্রায় একই হারে বিদেশী ক্রেতার সন্ধান মিলেছে।
দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ইউরোপের ক্রেতারা ফ্লোরিডাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
বিদেশীদের কেনা বাড়ির ৬৪ শতাংশ হচ্ছে এক ফ্যামিলি হাউজ; অর্থাৎ কেনা বাড়িগুলো নিজেদের বসবাসের জন্যেই ব্যবহার করতে আগ্রহী তারা।
এসব বাড়ির একেকটির গড় ক্রয়মূল্য হচ্ছে ৩ লাখ ২ হাজার ২৯০ ডলার।

Leave a Reply