বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাত পোহালেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বহুল প্রতিৰিত দশম সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও গ্রাজুয়েটদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ক্যাম্পাসে সাজ সাজ রব। সমাবর্তনে অংশ নিতে এরই মধ্যে নিবন্ধিত গ্রাজুয়েটরা ক্যাম্পাসে আসতে শুর্ব করেছেন। সাবেক-বর্তমানদের গান-গল্প ও আড্ডায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে সবুজ মতিহার চত্বর। বিগত যেকোন বারের তুলনায় এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰ।
গতকাল বিকেলে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের গ্রাজুয়েটরা দলবদ্ধভাবে ঘুরছেন। দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আপৱুত তারা। আনন্দঘন মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। দলবেধে প্যারিস রোডে হাঁটছেন, মনখুলে কেউবা গাইছেন বিভিন্ন গান।
আইন বিভাগের সাবেক শিৰার্থী নাজিম মৃধাও এসেছেন সমাবর্তনে অংশ নিতে। বন্ধুদের সঙ্গে প্যারিস রোডে ছবি তুলতে ব্যস্ত তিনি। এগিয়ে গিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কতদিন পর প্যারিস রোডে হাঁটছি। প্রিয় মতিহারে এসে সতেজতা অনুভব করছি। অনেক বন্ধু কিংবা বড় ভাই চলে এসেছে। তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় হয়েছে। যারা এখনও আসে নি, তাদের জন্য অপেৰায় আছি। সমাবর্তনে এসে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমান্থনে ব্যস্ত সময় পার করছি।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিৰার্থী এনায়েত করীম বলেন, ‘সমাবর্তনে সবাই একসঙ্গে হবো। কতদিন পর আবার দেখা হচ্ছে। অসাধারণ অনুভূতি। ক্যাম্পাসের সাজ সাজ রব উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। খুব মজা হবে।’
এদিকে, সমাবর্তন উপলৰে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান জানান, সমাবর্তনে বক্তা থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুর্বল ইসলাম নাহিদ।
উপাচার্য জানান, সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ১৪ জন গ্রাজুয়েট রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সনদপত্র গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যেই গ্রাজুয়েটদের ক্যাম্পাসে আগমন ও গাউন সরবরাহ শুর্ব হয়েছে। গ্রাজুয়েটরা স্ব-স্ব বিভাগ থেকে আজ (শুক্রবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাউন সংগ্রহ করতে পারবেন। এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী গ্রাজুয়েটদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে গাউন সংগ্রহ করতে হবে। সমাবর্তনের দিন ১০টি বুথ বসবে। গ্রাজুয়েটদের নির্ধারিত বুথ থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হবে।
অধ্যাপক আব্দুস সোবহান আরও জানান, সমাবর্তনের দিন দুপুর ২টার দিকে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন করবেন। এরপর তাঁকে উপাচার্যের বাসভবনে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। পরে দুপুর আড়াইটায় তিনি সমাবর্তন মঞ্চে যাবেন। অনুষ্ঠান শুর্বর আগে তিনি দু’টি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুপুর ৩টায় রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর দুই কথাসাহিত্যিককে ডি-লিট ডিগ্রি ও গ্রাজুয়েটদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। বিকেল চারটায় অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন।
এদিকে, সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ব্যাপক শোভাবর্ধনের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি একাডেমিক ভবনে রঙয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ভবনগুলোতে লাল-নীল বাতি লাগানো হয়েছে। ভবনগুলোর সামনে লাগানো হয়েছে বাহারি সব ফুলের গাছ। স্টেডিয়ামে তৈরি হচ্ছে অনুষ্ঠানের সুসজ্জিত প্যান্ডেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে শহিদ ড. শামসুজ্জোহা চত্বর পর্যন্ত ফুটপাত ও বাগানটিতেও শোভাবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। সাবাস বাংলাদেশ মাঠে তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড।
সমাবর্তনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের দিন ক্যাম্পাস জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।