তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী নগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুর। সাথে সাথে বাড়ছে জলাতঙ্কের আশঙ্কা। জন্মনিয়ন্ত্রণ ভ্যাকসিন না থাকায় লাগামহীন ভাবে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুর। একেতো জন্মনিয়ন্ত্রণ ভ্যাকসিনের অভাব তার ওপর মানবিক কারণে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ। এ যেন নগরবাসীর জন্য সাঁখের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা এখন সিটি কর্পোরেশনের জন্য ‘কূল রাখি না শ্যাম রাখি’ অবস’া।
কুকুরের প্রজননের মাস শুর্ব হবার সাথে সাথে মোড়ে মোড়ে এখন বেওয়ারিশ কুকুরের জটলা। এক এক দলে ৫টি ৬টি করে দল বেঁধে ঘুরছে। এই সময় প্রতিটি কুকুর মুখে জলাতঙ্ক জার্মের লালা নিয়ে ঘুরছে। কামড় দিলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা। অথচ রাসিক ও এর সাথে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের নেই কোন দায়িত্ব। কুকুর নিধন নিষিদ্ধ হওয়ায় কোন ব্যবস’া নিতে পারছে না রাসিক। এর ফলে উভয় সংকটে নগরবাসী।
এ সম্পর্কে রাজশাহী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বলেন, জলাতঙ্কমুক্ত রাখতে কুকুরের বাচ্চা প্রসব হবার পর দু’ মাস পার হলেই হেপ ভ্যাকসিন দেবার ব্যবস’া আছে। এক বছর দুই মাস পর পর এ ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর ১ বছর বয়স হলেই প্রতিটি কুকুরকে দিতে হবে লেপ ভ্যাকসিন। যাতে প্রতিটি কুকুর জলাতঙ্কমুক্ত থাকে। অথচ কেউ এ ব্যবস’া গ্রহণ করছে না। যেহেতু প্রায় কুকুর বেওয়ারিশ তাই নিয়ম বহির্ভুতভাবে জলাতঙ্কের জার্ম নিয়েই বেড়ে উঠছে কুকুরের বাচ্চা। তিনি আরো বলেন, কোন মানুষকে কামড়ালে এর জন্য রয়েছে র‌্যাবিসিন ইঞ্জেকশন। এটি প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন। তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে সেখানেই সংরৰিত, এটি সাধারণত: বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়।
নগরীর আনাচে কানাচে বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে উঠেছে। লাগামহীনভাবে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীকে দুষণমুক্ত রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। ভ্যাকসিনের সঙ্কট থাকায় নগরীতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ছে। যে কোন সময় জলাতঙ্ক রোগও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এই জলাতঙ্কের ঝুঁকি নিয়েই চলছে নগরবাসী। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ভ্যাকসিন রয়েছে কি না জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের স্বাস’্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা জানান রাসিকে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক রোধক ভ্যাকসিন নেই। তবে প্রাণি সম্পদ অফিস এ ব্যাপারে কাজ করছে।
নগর জুড়ে চলছে বেওয়ারিশ কুকুরের দাপট। একটি কুকুর তেড়ে আসলে এর সাথে ছুটে আসে আরও কয়েকটি কুকুর। এর ফলে তটস’ হয়েই চলতে হচ্ছে পথচারিকে। বেওয়ারিশ কুকুর সম্পর্কে বিকল্প ব্যবস’া না নেয়া হলে রাস্তা চলাই দায় হয়ে দাঁড়াবে।
ইতোমধ্যে রাতে প্রতিনিয়ত কুকুরের তাড়া খেয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনে চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রাতে পরিসি’তি কঠিন হয়ে ওঠে। অটোতে চলাচলকারীর উপরই উঠে পড়ার উপক্রম হয়।
অতীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। মানবিক কারণে কয়েক বছর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ করা হয়েছে বলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পৰ থেকে জানানো হয়েছে। নিধনের পরিবর্তে ভ্যাকসিন পুসের মাধ্যমে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণের নির্দেশ থাকলেও ভ্যাকসিনের অভাবে তা করতে পারছেন না বলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পৰ থেকে জানানো হয়েছে।
নগরবাসীর জন্য সব থেকে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতার অভাব। আর কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্কের যে ভয়াবহতা তা সাধারণ মানুষকে আরো আতঙ্কিত করে তোলে। তবে সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে যে বেওয়ারিশ কুকুরের দাপট বাড়লেও তা রোধের নেই কোন ব্যবস’া।
এই সিজনে কুকুরের প্রজনন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই মাসেই প্রতিটি মা কুকুর ৪ থেকে ৫টি করে বাচ্চার জন্ম দিয়ে থাকে। অথচ বেওয়ারিশ কুকুর বৃদ্ধি রোধে রাসিকের নেই কোন ব্যবস’া। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কিনা এর উত্তরে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি দায়িত্বে নিয়োজিত রাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন (ডলার)।
শুধু নগরী নয় বাইরে থেকেও নগরীতে প্রবেশ করছে প্রচুর কুকুর। আর ঐসব কুকুর বহন করছে জলাতঙ্কের রোগ জীবাণু।
রাজশাহী মেডিকেল স্টোর কর্মকর্তা ডা: আলী আকবর জানান, এ মুহূর্তে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোন ঘাটতি নেই। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন কুকুরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।