ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো ও জেলেদের রৰায় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

17/07/2017 1:02 am0 commentsViews: 4

এফএনএস: সরকার দেশে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো এবং জেলেদের রৰায় উদ্যোগ নিচ্ছে। কারণ প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যার কারণে দেশে প্রতি বছরই ইলিশের উৎপাদন কমছে। বর্তমানে জিডি-পিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। অভিযান ও নজরদারির পরও ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি একশ্রেণীর মহাজন ও দালালচক্রের কাছে বন্দী হয়ে রয়েছে জেলেরা। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই সব দালালচক্রের কবল থেকে ১০ হাজার জেলে পরিবারকে মুক্ত করার জন্য তাদের আর্থিক ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মৎস্য অধিদফতর সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, মহাজন ও দালালচক্রের হাত থেকে জেলেদের উদ্ধার করাসহ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস’াপনার জন্য ৯৭২ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। ওই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ৬ বিভাগের ২৯টি জেলার ১১১টি উপজেলায় মহাজনদের হাত থেকে জেলেদের রক্ষা, ৭১ উপজেলায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাসৱবায়ন, ৩ বিভাগের ৫ জেলার ২১ উপজেলার ১৩০টি ইউনিয়নে ইলিশের অভয়াশ্রম ব্যবস’াপনা কার্যক্রম জোরদার করা। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননু-মোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। আর প্রকল্প প্রসৱাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার জেলের পরিবারের জন্য। ওই ১০ হাজার জেলে গ্রম্নপকে দাদনদার ও মহাজনদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য মাছ ধরার জাল সহায়তা দেয়া হবে। ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বোট কিনে জেলেদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। ২০০ মৃত জেলের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া জাটকা আহরণ থেকে জেলেদের বিরত রাখতে বিকল্প কর্মসংস’ানের ব্যবস’া করা হবে।
সূত্র জানায়, আশির দশকের আগে মোট মৎস্য উৎপাদনে ২০ শতাংশ ছিল ইলিশের অবদান। ২০০২-০৩ সালে ইলিশের অবদান কমে ছিল জাতীয় উৎপাদনের মাত্র ৮ শতাংশ বা এক লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। ২০০০-০১ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। ২০০১-০২ সালে এই উৎপাদন কমে দুই লাখ ২০ হাজার টনে এবং ২০০২-০৩ সালে আরো কমে এক লাখ ৯৯ হাজার টনে দাঁড়ায়। অভ্যনৱরীণ জলাশয়ের পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে বিভিন্ন নদ-নদীতে বাঁধ ও ব্রিজের কারণে এবং উজান থেকে পরিবাহিত পলি জমার জন্য পানিপ্রবাহ কমে যায় এবং জলজ পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। যার কারণে ইলিশের পরিভ্রমণ, প্রজনন ক্ষেত্র এবং বিচরণ ও চারণ ক্ষেত্র দিন দিন পরিবর্তিত ও বিনষ্ট হচ্ছে। তাতে উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। নির্বিচারে ক্ষতিকর জাল ও সরঞ্জামাদি দিয়ে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আরো একটি বড় কারণ।
সূত্র আরো জানায়, ইলিশ বাংলা-দেশের জাতীয় মাছ এবং নবায়ন-যোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ এবং জিডিপিতে এক শতাংশ। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ। প্রায় ৫ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ আহরিত হয় এদেশের নদ-নদী থেকে। একসময় দেশের প্রায় সব নদ-নদী এবং শাখা ও উপনদীতেও প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। বন্যা বা পস্নাবনের বছরে নদীর সাথে সংযোগ আছে এমন সব বিলে ও হাওরেও ইলিশ মাছ কখনো কখনো পাওয়া যেত।
এদিকে মৎস্য অধিদফতরের সংশিস্নষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি সঠিক-ভাবে বাসৱবায়ন করা গেলে প্রকল্প মেয়াদ শেষে ইলিশ উৎপাদন সাড়ে ৫ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। জাটকা ধরাও অনেকটাই বন্ধ করা যাবে।

Leave a Reply