‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রানৱ মুক্তামনি

17/07/2017 1:02 am0 commentsViews: 2

এফএনএস: ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনির রোগের নাম জানা গেছে। এ সম্পর্কে রবিবার বার্ন অ্যান্ড পস্নাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামনৱ লাল সেনবলেন, ‘‘মুক্তামনি বিরল ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রানৱ বলেই আমরা ধারণা করছি।’’ড. সামনৱ লাল সেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা চারটি রোগের কথা ধারণা করলেও অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে লিমফেটিক ম্যালফরমেশন রোগে আক্রানৱ মুক্তামনি। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এই রোগের বিশেষত্ব হচ্ছে জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এই এর প্রকাশ কারও ক্ষেত্রে পায়, কারও ক্ষেত্রে পায় না। মুক্তামনিরটা প্রকাশ পেয়েছে তার জন্মের দেড় বছর পর। মুক্তামনির চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে ইতোমধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত, ১ ব্যাগ পস্নাজমা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতাল থেকে ডাবল ডায়েট দেওয়া হচ্ছে। গত তিনদিনে মুক্তার রক্তের অনেকগুলো পরীক্ষা এবং ইউরিন টেস্ট করা হয়েছে। হয়েছে সিটিস্ক্যন, এমআরআই, ডুপেস্নক্স ও আলট্রাসোনোগ্রাফি। রক্ত ও ইউরিনের রিপোর্ট হাতে পেলেও বাকিগুলো আগামীকাল পাব। যেগুলো পেয়েছি, সেগুলো ভালো আছে, বাকিগুলো আগামীকাল পেলে তার ওপর ভিত্তি করে পুরো সিদ্ধানৱ নেওয়া যাবে।’
তিনি জানান, মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের আট সদস্য তাদের অভিমত দিয়েছেন। এর বাইরেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কবীর চৌধুরী এবং জাতীয় হৃদরোগ ইন-স্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জন সহযোগী অধ্যাপক জিএম মকবুল হোসেন তাকে দেখে গিয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব অভিমত দিয়েছেন। তবে টিস্যু পরীক্ষা ও বায়োপসি না করে কিছু কনফার্ম করে যাবে না। এখন এই মেডিক্যাল বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা পরিকল্পনা চলছে। সব রিপোর্ট হাতে পেলে আমরা সবাই মিলে বসে সিদ্ধানৱ নেব।
কতদিনে মুক্তামনি সুস’ হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুক্তার চিকিৎসা সহজ হবে না। এটি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। এখানে মূল দায়িত্ব পস্নাস্টিক সার্জারির। এর সঙ্গে অর্থোপেডিক, মেডিসিন, ভাসকুলার সার্জারি টিম এরা সবাই জড়িত থাকবে। তবে এটা বলতে চাই চিকিৎসা একধাপে চলবে না। ধাপে ধাপে সার্জারি করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।’
উলেস্নখ্য, ‘মুক্তামনির কী অসুখ জানেন না চিকিৎসকরাও!’ এই শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে খবর প্রকাশিত হয়। পরে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমেও এ-সংক্রানৱ প্রতিবেদন আসে। এরপর স্বাস’্য সচিব ও স্বাস’্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে গত সোমবার সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাড়িতে গিয়ে মুক্তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। এরপর মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য ৮ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয় এবং মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্বও নেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply