নগরীতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে

17/07/2017 1:09 am0 commentsViews: 26

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে সমপ্রতি একের পর এক প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকিত নগরবাসী। এতে করে মামলা এবং আহতের ঘটনাও কম নয়। এরমধ্যে রাজপাড়া থানা এলাকায় তিনটি ঘটনা ঘটেছে, বোয়ালিয়া থানা এলাকায় একটি ও শাহমখদুম থানায় একটি গুলির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার কিংবা আসামিদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে নগরীর তেরখাদিয়া স্টেডিয়ামের সামনে পাওনা টাকার জের ধরে রাব্বি (২২) নামে এক যুবককে গুলি করেছে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। আহত যুবক নগরীর বহরমপুর এলাকার খোরশেদ হোসেন ওরফে খোকনের ছেলে। এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানায় মামলা হয়েছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার রাজু ও বাপ্পা নামে দুই বন্ধুকে ২০ হাজার টাকা ধার দেয় রাব্বি। উক্ত টাকা দিতে তারা গড়িমশি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা রাব্বিকে মারপিট করে ও ডান হাতে পিস্তল ঠেকিয়ে একাধিক গুলি করে। আহত রাব্বি বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, গত ৪ জুলাই রাজপাড়া থানার রায়পাড়া এলাকায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দু’পৰের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম নূর আলম। তিনি উক্ত এলাকার বাসিন্দা। সামান্য আম গাছে ঢিল মারাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, শাহমখদুম থানার বায়া ভোলাবাড়িতে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের অভিভাবক সাইদুর রহমান প্রতিবাদ করায় পিস্তলের ফাঁকা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় শুভ নামে এক বখাটে। এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। উক্ত বখাটে বায়া ভোলাবাড়ি এলাকার তাজুলের জামাই ও নগরীর মিরের চক এলাকার শামসুল হকের ছেলে। পরে থানায় অভিযোগ সহ গত ২ জুলাই আরএমপি পুলিশ কমিশনার বরাবর বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এছাড়াও গত ২৮ জুন পবার চর মাঝারদিয়াড়ে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দ’ুপৰে মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হন। ওই এলাকার ইউপি সদস্য শামিম হোসেন ও চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল মারামারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৪ মে দিবাগত রাতে রাজশাহী শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’পৰের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে করে সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হন। এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি গত তিন মাসে এ সকল ঘটনায় পুলিশ না আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছে না কোনো আসামী ধরতে পেরেছে। এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, তেরখাদিয়া স্টেডিয়ামের সামনে গুলির ঘটনায় আসামি পলাতক রয়েছে। তবে তাদেরকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিলৱুর রহমান বলেন, আসামি শুভ আত্মগোপন করেছে। তাকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ডিসি পশ্চিম আমির জাফরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোনালী সংবাদকে বলেন, যারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply