অবশেষে এজলাস সংকট কাটতে চলেছে

17/07/2017 1:04 am0 commentsViews: 2

বিচারবিভাগ নিয়ে অনেক কথা। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও সৰমতা ছাড়া কখনই ন্যায় বিচার যেমন নিশ্চিত হয় না তেমনি আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠিত হয় না। যদিও এদেশে এসব নিয়ে মতবিরোধের শেষ নেই।
বিচারবিভাগের সৰমতা অনেকাংশেই নির্ভর করে বিচারক ও অবকাঠামোর ওপর। বিচারক সংকটের কথা অজানা নয়। এনিয়ে খবর হয়েছে, লেখালেখিও হয়েছে। তবে নড়বড়ে ও সীমাবদ্ধ অবকাঠামোর সঙ্গে পরিচয় বিচারপ্রার্থী ও সংশিৱষ্টদেরই বেশি। রাজশাহী আদালতে এজলাস সংকটের কারণে বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে ব্যাহত হয় সেটা গোপন কিছু নয়। অবশেষে এজলাস সংকটের অবসান হতে যাচ্ছে বলে গতকালের পত্রিকায় জানা গেছে।
আগামী ১৯ জুলাই রাজশাহী চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বহুতল ভবন উদ্বোধনের কথা। রাজশাহী জেলা ও মহানগর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারকের পদ ১৬ টি হলেও এজলাস সংকটে এতদিন শিফটিংয়ে কাজ চলেছে। এতে বিচার কার্যক্রম কীভাবে বিঘ্নিত হয়েছে সেটা ভূক্তভোগী মাত্রই জানেন। বিভিন্ন আদালত বিভিন্ন ভবনে থাকার ফলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ সংশিৱষ্টদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এর সমাধানে সিদ্ধান্ত হলেও যথারীতি তা ঝুলে থাকায় হতাশাও ছিল আদালত পাড়ায়।
অবশেষে ২০১২ সালে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় সাপেৰে বহুতল বিশিষ্ট চীফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হবার লৰণ ছিল না। ২৪ মাসের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে ৫ বছর। আর তা উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পর। এমন শম্বুক গতি শুধু আদালত ভবন নির্মাণের ৰেত্রেই নয়, দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেড়ে বসেছে। মামলা জট দূর করার ৰেত্রেও একই অবস্থা।
রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে মাঝে মধ্যে বিচারকের সংখ্যা কম থাকার ফলে বিচারকার্যক্রমে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ফলে বিচার কাজ শেষ হতে দীর্ঘ সময় ও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সংশিৱষ্টদের। কথায় বলে, বিচার বিলম্বিত হওয়া বিচার অস্বীকার করার শামিল। বাস্তবে সেটাই দেখতে হয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। তারপরও কর্তৃপৰের টনক নড়েনি।
আশা করা যায়, নতুন আদালত ভবন পাওয়ার পর এজলাস সংকট দূর হবে। এখন বিচার কার্যক্রমে বিরাজিত মামলা জটসহ অন্যান্য সংকট দূর করা জর্বরি। এসব নিয়ে উদ্যোগী হওয়াই এখন রাজশাহী আদালত পাড়ার সকলের দাবি। আমরাও বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়সহ উচ্চ আদালতের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

Leave a Reply