সিরাজগঞ্জে আরো ২৩ গ্রাম পৱাবিত

16/07/2017 1:05 am0 commentsViews: 3

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, গুমানী, হুরাসাগর, ফুলজোড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরো ২৩টি গ্রাম পৱাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী শনিবার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ যমুনানদীর শহর রৰা বাঁধ এলাকা দিয়ে ৩ সেন্টিমিটার পানি কমে ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যায় জেলার ৫০টি ইউনিয়ন পৱ্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৰতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪টি ইউনিয়ন। জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর, সদর ও চৌহালী উপজেলার ২ শ ৪৭টি গ্রামের ৪৭ হাজার ৬ শ ৬০টি পরিবার বন্যায় ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯ শ ৮০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২৭ হাজার ২ শ ৭৭টি ঘরবাড়ি আংশিক ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ শ ২৩টি শিৰা প্রতিষ্ঠান এবং ৬ কিলোমিটার বাঁধ ও রাস্তা ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে বন্যা কবলিতদের জন্য ১ শ ৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় ৯ হাজার ১ ৪০ হেক্টর ফসলি জমি ৰতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩ শ ৫০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খবার ও নগদ ১২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিৰা কর্মকর্তা সিদ্দিক ইউসুফ রেজা জানান, বন্যা কবলিত ৫টি উপজেলার ১ শ ৩৯টি বিদ্যালয়ের মাঠে ও ২৭টির ভবনে পানি উঠেছে। কাজিপুর উপজেলার ফুলজোড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে ১ শ ৭৭টি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের নিয়ে মনিটরিং সেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেৰণ করা হচ্ছে। তবে জেলায় এখনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বন্যা মোকাবেলায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বন্যা কবলিত এলাকার কোন মানুষও যেন না খেয়ে থাকে-একজন মানুষও যাতে বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। খাদ্যের কোন অভাব নাই। যা চাইবেন তার চেয়ে বেশি দেয়া হবে। তবে ত্রাণ বিতরণে কোন দুর্নীতি করলে ছাড় দেয়া হবে না।
শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কৰে আয়োজিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত এ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে বন্যায় ৰতিগ্রস্তদের পুর্নবাসিত করা হবে।
জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন এমপি, সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ আলম, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিভিল সার্জন ডা. মনজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান ভুঁইয়াসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরে মন্ত্রী বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply