কলঙকমুক্ত হলো নাটোর উত্তরা গণভবন

16/07/2017 1:06 am0 commentsViews: 23

নাটোর প্রতিনিধি: অবশেষে নাটোর উত্তরা গণভবনের মূল প্যালেসে স্থাপিত স্বাধীনতাবিরোধী কুখ্যাত রাজাকার মোনায়েম খানের নাম ফলক অপসারণ করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার সময় গণপূর্ত বিভাগ ও লো প্রশাসনের উদ্যোগে এই নামফলক অপসারণ করা হয়। ফলে কলঙকমুক্ত হলো প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবন উত্তরা গণভবন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এমপি, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান, পুলিশ সুপার বিপৱ্লব বিজয় তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরুজ্জামান ভুঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. চিত্রলেখা নাজনিন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ সরকারসহ সাংবাদিক, আইনজীবী শিৰকসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ।
এর আগে উত্তরা গণভবন হতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্নর ‘মোনায়েম খানের নামফলক’ অপসারণের জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপেৱ্লঙ হতে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিল নিয়ে তারা উত্তরা গণভবনের সামনে গিয়ে হাজির হন। গণ মিছিলে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মি, সাংবাদিক, শিৰকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় তিন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ‘কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক’ অপসারণ কাজ সম্পন্ন করেন।
পরে উত্তরা গণভবনের মূল ফটকের বাইরে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যাগে এক পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও শিৰকরা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর হলেও উত্তরা গণভবন থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণ হওয়ায় সাধারণ মানুষও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ জানান, উত্তরা গণভবন থেকে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে ৪ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সুরাইয়া বেগম স্বাৰরিত এক চিঠি গত ৫ জুলাই তার হাতে আসে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নাটোর জেলার উত্তরা গণভবন হতে স্বাধীনতাবিরোধী কুখ্যাত রাজাকার মোনায়েম খানের নামফলক জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অপসারণ করে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তা সংশিৱ্লষ্টকে অবহিত করতে হবে। এরই প্রেৰিতে তা অপসারণ করা হলো। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু উত্তরা গণভবনটি যেহেতু সংরৰিত স্থাপনা, তাই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা ছাড়া জেলা প্রশাসন এটি অপসারণ করতে পারছিলেন না। পরে নির্দেশনার পর তা অপসারণ করা হলো। এতে উত্তরা গণভবনের নতুন ইহিতাস সৃষ্টি হলো। আর এর সাথে সাথে কলঙকমোচনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল নাটোরবাসীসহ সমগ্র জাতি ।
উলেৱখ্য, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর কুখ্যাত মোনায়েম খান দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে গভর্নর হাউজ হিসাবে উদ্বোধন করে নামফলক স্থাপন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘গভর্নর হাউজ’কে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর দুটি নামফলক পাশাপাশি অবস্থান করছিল। সমপ্রতি বিষয়টি আলোচনায় আসলে তা অপসারণে চিঠি দেয় গণপূর্ত বিভাগ।

Leave a Reply