জ্ঞানের আলো ছড়াতে গ্রন’াগারের বিকল্প নেই

16/07/2017 1:04 am0 commentsViews: 13

লাইব্রেরি বা গ্রন’াগারে সাগরের মহাকলেস্নাল ধরে রাখা হয়েছে বলা হয়। যারা সেখানে বই পড়ে সময় কাটান তারাই সেটা উপলব্ধি করতে পারেন। বই পড়া তথা জ্ঞান চর্চা ছাড়া কোনো জাতিই উঠে দাঁড়াতে পারে না। তাই গ্রন’াগার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার গুরম্নত্ব সমধিক।
তবে এখন তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারে বই পড়ার অভ্যাস হারাতে বসেছে। বিশেষ করে তরম্নণদের মধ্যে এটা লৰ্য করা যায়। সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে বিপর্যসৱ করছে সেটা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়। মারামারি, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা, যৌন নির্যাতন, নিপীড়নে বিশেষ করে তরম্নণদের জড়িয়ে পড়া ভয়াবহ হয়ে ওঠার পেছনে জ্ঞান চর্চার অভাবকেই অনেকাংশে দায়ী করা যায়। সমাজের এমন পরিণতি ঠেকাতে গ্রন’াগারের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
জ্ঞানের সমূদ্রে বিচরণ করে যে কেউ সত্যিকার মানুষ হবার পথ খুঁজে পেতে পারে। সে লৰ্য মাথায় রেখেই স্বাধীনতার পর পরই দেশজুড়ে গণগ্রন’াগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। তার ফলে ১৯৭৫ সালেই রাজশাহী সাধারণ পুসৱকালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রাজশাহী সরকারি গণগ্রন’াগার, ১৯৯৩ সালে তা উন্নীত হয়ে রাজশাহী সরকারি বিভাগীয় গ্রন’াগার হিসেবে বর্তমান রূপ ধারণ করে।
নগরীর লক্ষ্মীপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে অবসি’ত ১৬ হাজার ৭২০ বর্গফুটের এই গ্রন’াগারে মোট বইয়ের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৯৬৮। এর মধ্যে বাংলা বই ৫৯ হাজার ৬১৫ টি। দেশের অন্যতম এই গ্রন’াগারের ৫০ ভাগ বইই দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ বলে জানা গেছে।
শেক্সপিয়ার, মাইকেল মধূসূদন দত্তের মত প্রখ্যাত কবি-লেখকের প্রকাশিত বইয়ের প্রথম সংস্করণসহ ব্রিটিশ আমলের পত্র-পত্রিকা, ক্যালকাটা রিভিউয়ের মত বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য পত্রিকা ও মূল্যবান বইয়ের কারণে এই গ্রন’াগার নিয়ে রাজশাহীবাসী গর্ব করতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এ সব তথ্য ক’জনার জানা! এখানকার পাঠকসংখ্যা যে হতাশাজনক সে খবরও অনেকেই রাখেন না। দু’টি পাঠকৰের বেশিরভাগ চেয়ারই ফাঁকা পড়ে থাকে। টেবিল-চেয়ার, তাকের বইয়ের ওপর ধুলার আসৱরণই বলে দেয় পাঠক স্বল্পতার কথা।
অথচ রাজশাহীর পরিচয় শিৰানগরী হিসেবে। এই শহরে বসবাসকারীদের সংখ্যাধিকই শিৰার সাথে জড়িত। শিৰার্থীর সংখ্যাও কম নয়। তবে তারা গ্রন’াগারমুখী নয়। কেন ? সেখানকার পরিবেশ নিয়ে কি প্রশ্ন আছে? রাজশাহীতে এমন গ্রন’াগার আছে সেটা কি সবার জানা? নাকি এর কথা জানা নেই। ফলে তরম্নণ শিৰার্থীরা সময় কাটাতে ভিন্ন জায়গায় ভিড় জমায়। তাদের আকৃষ্ট করা খুবই জরম্নরি।
এজন্য এই জ্ঞানভান্ডারের পরিচয় তুলে ধরতে হবে সবার সামনে। এজন্য নানামুখী প্রচারণার গুরম্নত্ব কেউই অস্বীকার করতে পারে না। সংবাদ মাধ্যমে বা শিৰা প্রতিষ্ঠানে এই গ্রন’াগারের পরিচয় তুলে ধরে, এখানকার সুযোগ-সুবিধা জানালে নিশ্চয়ই পরিবর্তন দেখা যাবে। পত্র-পত্রিকা পাঠের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই পড়া, রেফারেন্স ছাড়াও ইন্টারনেট সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের কথা জানলে আগ্রহী তরম্নণের সংখ্যা বাড়বে, এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পাঠাভ্যাস বাড়াতে আরও নানা ধরনের কর্মসূচী গ্রহণ ও বাসৱবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে সংশিস্নষ্টদেরই।
একমাত্র তাহলেই শিৰানগরীর বিদ্বৎসমাজ ঐতিহ্যবাহী বিভাগীয় গ্রন’াগারটির জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে আসবেন। কারণ তারাই জানেন জ্ঞানের আলো ছড়াতে গ্রন’াগারের বিকল্প নেই। আর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে না উঠলে বিশ্বে কোন দেশই মাথাউঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।

Leave a Reply