বেলকুচিতে বন্যার পানি বৃদ্ধি ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত, নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ

14/07/2017 1:03 am0 commentsViews: 4

জহুরম্নল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ গত দুই সপ্তাহ ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সদর ও বড়ধুল এই দুই ইউনিয়নের মানুষ পুরোপুরি পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জিবন যাপন করছে।
এছাড়াও রাজাপুর, দৌলতপুর ও বেলকুচি পৌর এলাকার কিছু অংশের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের শত শত একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানি বন্দীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ওষুদের সংকট। বুধবার সকালে সরকারী ভাবে সামান্য ত্রাণ দেওয়া হলেও বেসরকারী কোন ত্রাণ সহায়তা পৌছেনি এখনও। এদিকে মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় বন্যার্ত এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বেলকুচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের, মুলকান্দী, ছোট বেড়াখারম্নয়া, বারপাখিয়া, মোনতলা, বেলকুটির চর, দেলুয়া, রানিপুড়া। বড়ধুল ইউনিয়নের ৰিদ্রচাপরি, চনবেল, জাঙ্গালিয়া, দিগুলিয়া, মেহের নগর, দুর্লবগাতী, ভাঙ্গাবাড়ী। রাজাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া, মকিমপুর রান্ধুনীবাড়ী, কোনাবাড়ী, শাহপুর, আগুরিয়া। দৌলতপুর ইউনিয়নের আজুগড়া, জামতৈল, মেগুলস্না গ্রাম ও বেলকুচি পৌরসভার চালা, মুকুন্দগাতী, ৰিদ্রমাটিয়া, দেলুয়া, সোহাগপুর, রতনকান্দী গ্রামে বন্যার প্রানি প্রবেশ করেছে। এসব এলকার আবাদি জমি, শিৰা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও হাটবাজারে যাতায়াতের রাসৱা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানি বন্দী অবস’ায় চরম দূর্ভোগে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব এলাকার বহু পরিবার। বন্যায় ৰতিগ্রস’ বেলকুচি উপজেলার ৰিদ্রমাটিয়া গ্রামের শহিদুল, আলা উদ্দিন, নুর ইসলাম ও মজিবর রহমান জানান, বন্যায় বাড়ীতে পানি প্রবেশ করায় উচু স’ানে আশ্রয় নিয়েছি। এর পরতো ডাকাতের উৎপাত লেগেই আছে। কোথায়ও যেতে পারছি না। রান্না খাওয়া বন্ধ করে বসে আছি। এ পর্যনৱ সরকারী-বেসরকারী কোন ত্রাণ সহায়তা আমাদের এলাকায় পৌছায়নি বলে অভিযোগ করে তারা আরো জানান, ভোটের সময় অনেককেই দেখা যায়, এখন কেউ আমাদের খোজ নিতে আসে না।
এদিকে এবারের বন্যায় মাধ্যমিক, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ প্রায় ২৮টি শিৰা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিৰক/শিৰার্থীদের অবর্ননীয় দুর্ভোগে পড়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে দাবি করে উপজেলা শিৰা কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের পানি প্রবেশ করলেও চেয়ার বেঞ্চ অনত্র নিয়ে ক্লাস চালু রেখেছি। অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিজ দায়িত্বে যাতায়াত করছে।
এদিকে উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় শত শত তাঁত শ্রমিকের যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে তাঁত করাখানা। এবিষয়ে বেলকুচি উপজেলা প্রকল্প বাসৱবায়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, এ উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে ৰতিগ্রসে’র তালিকা করতে বলা হয়েছে। জেলা ত্রাণ কার্যালয় থেকে ৮ টন জিআর বরাদ্দ পেয়ে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার ও নগদ বিশ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, বানভাসীর তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান জানান, বন্যায় যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ বিপর্যস’ হচ্ছে। ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ৮ টন জিআর তিনটি ইউনিয়নে ১০ কেজি করে ৮শ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার ও নগদ বিশ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। আরও ত্রাণ বরাদ্দের জন্য আমরা উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট চাহিদা পাঠিয়েছে।

Leave a Reply